
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় সিএনজি চালিত অটোরিকশার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত ভাড়া তালিকা না থাকায় চালকেরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সময়ের সঙ্গে ভাড়া পরিবর্তন হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নির্ধারিত তালিকা প্রণয়ন বা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এতে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ছেন। উপজেলার বিভিন্ন সড়কে স্বল্প দূরত্বেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে, এ বিষয়ে (৪ এপ্রিল ২০২৬ ইং) সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক তানভীর ভুইয়াকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তিনি জানান, টুকচানপুর সিএনজি স্ট্যান্ডের একাধিক চালক তার প্রতিবেদনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ওই সময় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে চারজন চালক তার বাড়িতে গিয়ে এক নারী সদস্যের কাছে তাকে গুম ও হত্যা করার হুমকি দেয় এবং দ্রুত সংবাদটি সরিয়ে ফেলার আল্টিমেটাম দেয়।
তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে এক চালক তাকে ফোন করে সিমনা (শেখ হাসিনা) সড়ক দিয়ে চলাচল না করার হুমকি দেন এবং বলেন, ‘ওই পথে গেলে’ পরিণতি খারাপ হবে’। একই সঙ্গে তার ছবি সংগ্রহ করে কিছু লোক অবস্থান করছে বলেও জানানো হয়।
তানভীর ভূইয়া বলেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরা আমার পেশাগত দায়িত্ব। কিন্তু এ কারণে আমি এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি নিরাপদে সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ ও হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।
বিজয়নগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ শাহ্ বলেন, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে আমরা মাঠে গিয়েছি। আবুল বাসার (৪০) নামের এক চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অন্যদের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। তাকে সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সন্তোষজনক জবাব দেননি।
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি হীরা আহমেদ জাকির বলেন, জনসাধারণের সমস্যা, সমাজের অন্যায়, অনিয়ম ও অপরাধ তুলে ধরাই সাংবাদিকের দায়িত্ব। সংবাদ প্রকাশের জেড়ে সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া স্বাধীন সাংবাদিকতা ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার শামিল। আমরা এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং এ ঘটনায় হুমকি দাতাদের শাস্তির দাবি জানাই।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সিএনজি ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।