সবুজের মাঠ হলুদে ভরা,বিজয়নগরে সরিষার বাম্পার ফলন

অর্থনীতি, বিজয়নগর, সারাদেশ, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, 90 বার পড়া হয়েছে,

এস এম জহিরুল আলম চৌধুরী (টিপু):

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চোখে পড়ছে হলুদের সমারোহ। নানা জাতের সরিষার হলুদ ফুলে ঢেকে গেছে মাঠের পর মাঠ। হিমেল হাওয়ায় দোল খাওয়া সরিষা ফুল যেন প্রকৃতিতে যোগ করেছে অনন্য এক সৌন্দর্য। এ দৃশ্য মুগ্ধ করছে পথচারীসহ সকলকেই, আর প্রাণ জুড়িয়ে দিচ্ছে কৃষকের মন।

সরিষা ফুলের এমন সমারোহে খুশি কৃষকরা, পাশাপাশি আনন্দে রয়েছেন সরিষা থেকে মধু আহরণকারীরাও। বিগত কয়েক বছরে সরিষার ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় চলতি মৌসুমে কৃষকরা সরিষা চাষে আগের চেয়ে বেশি ঝুঁকছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিজয়নগর উপজেলায় প্রায় ৬১০ হেক্টর জমিতে বারি সরিষা- ১৪,১৭, ১৮ ও ২০ এবং বিনা সরিষা-৪, ৯, ১১ ও ১২ সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করা হয়েছে।এ বছর সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৩২ মেট্টিক টন সরিষা। যা থেকে প্রায় ২৯০ মেট্টিক টন সরিষা তৈল উৎপাদিত হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বুধন্তী, রসুলপুর, চরইসলামপুর,  রামপুর, ইসলামপুর, কেনা, মির্জাপুর, পাইকপাড়া, আব্দুল্লাহপুর, সাটিরপাড়া, পেটুয়াজুড়ি, চম্পকনগর, পত্তন, পাহাড়পুর , আদমপুর, সিঙ্গারবিল,হরষপুর,  বিষ্ণুপুর এলাকা সরিষার চাষ হয়েছে। মাঠের পর মাঠজুড়ে কেবল হলুদ আর হলুদ। এখানকার উৎপাদিত সরিষা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে আবাদ বৃদ্ধি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন।

উপজেলার চম্পকনগর এলাকার কৃষক সুজন মিয়া বলেন, এ বছর আমরা আগের তুলনায় অনেক বেশি সরিষা আবাদ করেছি। আবহাওয়া যদি এভাবেই অনুকূলে থাকে, তাহলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।

কৃষক সাজু মিয়া বলেন, সরিষা চাষে রোপণ থেকে শুরু করে তেমন বাড়তি খরচ লাগে না। আমি এ বছর ৩০ শতাংশ জমিতে জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। ফলন ভালো হবে আশা করছি।

উপসহকারি কৃষি অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদেরকে বিভিন্ন ভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আশা করছি এবছর কৃষকরা সরিষা আবাদের অনেকটাই আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার জিয়াউল ইসলাম বলেন, সরিষা একটি স্বল্প খরচের লাভজনক ফসল। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।