পাসপোর্ট করা থেকে সরকারি চাকরি কিংবা বিদেশে গমন, সবখানে পুলিশের তদন্ত ও ছাড়পত্র থাকা আবশ্যক। কিন্তু তারা কী তদন্ত করছে, তা পুলিশ বিভাগের তদন্তেই উঠে এসেছে। স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও অনেকে পুলিশ ছাড়পত্র পান না। মাসের পর মাস তাঁদের পুলিশের কাছে ধরনা দিতে হয়। আবার বাংলাদেশের নাগরিক না হয়েও রোহিঙ্গারা পুলিশের ছাড়পত্র নিয়ে পাসপোর্ট করে ফেলছেন বলে বারবার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই ভুয়া ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র পাওয়ার ঘটনা যে কেবল মৌলভীবাজারে ঘটেছে, তা নয়। বাংলাদেশের সব জেলাতেই এ ধরনের অস্থায়ী বাসিন্দাদের স্থায়ী বাসিন্দা বানিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। মৌলভীবাজারে ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনের দুজন জামিনে আছেন, একজন পলাতক। যেখানে পুলিশের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর থাকে, সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পুলিশ বিভাগের সংস্কারে গঠিত কমিশন আইন প্রয়োগকারী ও তদন্তকারী সংস্থাকে আলাদা করার সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ তারাই বাস্তবায়িত হতে দেয়নি, যারা পুলিশ বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চায় না।
মৌলভীবাজারের পুলিশের ভুয়া ছাড়পত্রের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ বিভাগের মানসম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি জড়িত। এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই প্রেক্ষাপটে আশা করা যায়, ভুয়া ছাড়পত্র প্রদানকারী ও তাঁদের সহায়তাকারী দালাল চক্রের সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে। পুলিশ বিভাগ থেকে প্রায়ই ঘোষণা করা হয়, আইন সবার জন্য সমান। আমরা বাস্তবেও এর প্রতিফলন দেখতে চাই। কেবল মৌলভীবাজার নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও যেসব পুলিশ সদস্য ভুয়া ছাড়পত্রের নামে মানব পাচারকারীদের সহায়তা করছেন, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক। সে ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের কাজে সাধারণ মানুষের আস্থাই ফিরে আসবে না, এতে মানব পাচারও অনেকাংশ কমে যাবে।
"/>

ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক

আইন-আদালত, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, 33 বার পড়া হয়েছে,

বিদেশগামী ব্যক্তিদের জন্য সরকার পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র চালু করেছে এই উদ্দেশ্যে যে ভুয়া পরিচয় ও ঠিকানা দিয়ে কেউ যাতে বিদেশে যেতে না পারেন। কিন্তু যাঁদের হাতে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের দায়িত্বহীনতা ও অসততার কারণে বহু নারী ও পুরুষের জীবনে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। মানব পাচারকারীরা তাঁদের অবৈধ ব্যবসা চালাতে পুলিশের ভুয়া ছাড়পত্রকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।, গত ছয় মাসে বিদেশগামী যে দেড় হাজার ব্যক্তিকে মৌলভীবাজার জেলা থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ৬৭৮ জনই ভুয়া। তাঁরা কেউ ওই জেলার বাসিন্দা নন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের এক প্রতিবেদনে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আর জালিয়াতির হোতা হলেন জেলা সদর ও কমলগঞ্জ থানা–পুলিশের তিনজন কর্মকর্তা। সিআইডির পরিদর্শক প্রবীর কুমার ঘোষ বলেছেন, এই পুলিশ সদস্যরা একটি দালাল চক্রের যোগসাজশে এ কাজ করেছেন। এর বিনিময়ে প্রত্যেক নাগরিকের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র, যার একটা বড় অংশ পেয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

পাসপোর্ট করা থেকে সরকারি চাকরি কিংবা বিদেশে গমন, সবখানে পুলিশের তদন্ত ও ছাড়পত্র থাকা আবশ্যক। কিন্তু তারা কী তদন্ত করছে, তা পুলিশ বিভাগের তদন্তেই উঠে এসেছে। স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও অনেকে পুলিশ ছাড়পত্র পান না। মাসের পর মাস তাঁদের পুলিশের কাছে ধরনা দিতে হয়। আবার বাংলাদেশের নাগরিক না হয়েও রোহিঙ্গারা পুলিশের ছাড়পত্র নিয়ে পাসপোর্ট করে ফেলছেন বলে বারবার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

এই ভুয়া ক্লিয়ারেন্স বা ছাড়পত্র পাওয়ার ঘটনা যে কেবল মৌলভীবাজারে ঘটেছে, তা নয়। বাংলাদেশের সব জেলাতেই এ ধরনের অস্থায়ী বাসিন্দাদের স্থায়ী বাসিন্দা বানিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। মৌলভীবাজারে ভুয়া পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনের দুজন জামিনে আছেন, একজন পলাতক।

যেখানে পুলিশের মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের ওপর থাকে, সেখানে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে পুলিশ বিভাগের সংস্কারে গঠিত কমিশন আইন প্রয়োগকারী ও তদন্তকারী সংস্থাকে আলাদা করার সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশ তারাই বাস্তবায়িত হতে দেয়নি, যারা পুলিশ বিভাগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চায় না।

মৌলভীবাজারের পুলিশের ভুয়া ছাড়পত্রের ঘটনার সঙ্গে পুলিশ বিভাগের মানসম্মান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নটি জড়িত। এ ধরনের ঘটনা পুলিশ বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই প্রেক্ষাপটে আশা করা যায়, ভুয়া ছাড়পত্র প্রদানকারী ও তাঁদের সহায়তাকারী দালাল চক্রের সদস্যদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

পুলিশ বিভাগ থেকে প্রায়ই ঘোষণা করা হয়, আইন সবার জন্য সমান। আমরা বাস্তবেও এর প্রতিফলন দেখতে চাই। কেবল মৌলভীবাজার নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও যেসব পুলিশ সদস্য ভুয়া ছাড়পত্রের নামে মানব পাচারকারীদের সহায়তা করছেন, তাঁদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হোক। সে ক্ষেত্রে পুলিশ বিভাগের কাজে সাধারণ মানুষের আস্থাই ফিরে আসবে না, এতে মানব পাচারও অনেকাংশ কমে যাবে।