আবারও বাড়লো বিদ্যুতের দাম

অর্থনীতি, জাতীয়, ১ মার্চ ২০২৩, 19911 বার পড়া হয়েছে,

রকারের নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপণ জারি করা হয়। বর্ধিত দাম চলতি মাস থেকে কার্যকর হবে। নতুন প্রজ্ঞাপনে ৫ ভাগ দাম বাড়নো হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলো।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী লাইফলাইন গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ১৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৩৫, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা এবং ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের ৬ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের জন্য ৬ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের ওপরে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল ১২ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বেড়ে ১৩ টাকা ২৬ পয়সা করা হয়েছে। আবাসিক গ্রাহক ছাড়াও বেড়েছে সব ধরনের বিদ্যুতের দাম। এরমধ্যে কৃষি, ধর্মীয়, দাতব্য, হাসপাতাল, রাস্তার বাতি, পানির পাম্প, ক্ষুদ্র শিল্প, শিল্প, বাণিজ্য, ব্যাটারি চার্জিং স্টেশনের বিদ্যুতের দামও বেড়েছে।

উল্লেখ, গত ৩১ জানুয়ারি বিদ্যুৎ বিভাগ পাইকারি ও খুচরা বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিদ্যুতের ওই বর্ধিত দাম ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হবে বলে তখন জানানো হয়। এর আগে ১২ জানুয়ারি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

গত বছর বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতের দাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মাধ্যমে উৎপাদন, বিরতণ কোম্পানি, ভোক্তাসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতো। কিন্তু সরকার আইন সংশোধন করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়ানোর ক্ষমতা হাতে নিয়ে নেয়। এরপর থেকে নির্বাহী আদেশে দাম বাড়ানো হচ্ছে। যদিও সরকার বলছে দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয়। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কম দামে ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি না পেলেও নিয়মিত মুনাফা করছে।