মলাই প্রার্থী হওয়ায় আজাদের কপালে হাত! মুচকি হাসি অলির শিবিরে

বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 15 December 2021, 404 বার পড়া হয়েছে,

রাইট টাইমস ডেস্কঃ বিজয়নগর উপজেলার ১০নং পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতিক নিয়ে সহজ জয়ের পথে হাঠছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ।

কিন্তু তার এই সহজ জয়ের স্বপ্ন যেন দুঃস্বপ্ন হয়ে দেখা দেয় খাটিংগা গ্রামের মোঃ জসীম উদ্দিন মালাই নিজের প্রার্থীতা ঘোষনা করায়।যদিও মলাই নতুন প্রার্থী না। সে আগেও একাধিকবার নির্বাচন করার চেষ্টা চালিয়ে জনমত গঠন করে ভোটারদের সাথে সম্পৃক্ততা রেখে আসছিল।গত নির্বাচনে সে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে ছিল।এর আগের নির্বাচনে আঞ্চলিক জোটের কারনে নির্বাচন শক্তিশালী প্রার্থী হয়েও নির্বাচন করতে পারেনি।

এমন পরিস্থিতিতে সুবিধাজনক অবস্থান জয়ের স্বপ্নে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক এম অলি আহাম্মদ মাঠে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে।যা নৌকার বিজয়ের দৃষ্টমান কঠিন প্রতিবন্ধকতা। এছাড়াও আজাদের ঘরে শাহীন আলম সানু নামে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীতা বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাহাড়পুর ইউনিয়নে ঘুরে ও সাধারণ ভোটারদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, পাহাড়পুর ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চল ধুরানাল,মনিপুর,বামুটিয়া,সানিপুর,চাঁনপুর, খাটিংগা,লতিফপুর, ভূটাংবাড়ি,লামা খাটিংগা, দাঁড়িয়াপুর একক প্রার্থী ছিলেন আবুল কালাম আজাদ।এই অঞ্চলে হঠ্যাৎ খাটিংগা গ্রামের জসিম উদ্দিন মলাই নিজের প্রার্থীতা ঘোষনা করে খাটিংগা গ্রামের সর্বস্তরের সম্মতি অর্জন করায় লামা খাটিংগা, ভূটাংবাড়ি,লতিফপুর ও দাঁড়িয়াপুরের অধিকাংশ সমর্থন তার অনুকূল চলে আসায় আজাদের ভোট ব্যাংকের বাক্স ছিনতাইয়ের মত হয়ে উঠেছে।

অপরদিকে পশ্চিম অঞ্চলের সহেদেবপুর,পাহাড়পুর,আলাকপুর,নয়নপুর, কচুয়ামুড়া,ঘিলামুড়া,অলিপুর,ভিটিদাউদপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে অলির আধিপত্য বিস্তার রয়েছে।

পাশাপাশি কামালমুড়া,সেজামুড়া,খলামুড়া,মুকুন্দপুর,নজরপুর,গোয়ালনগর, চাঁনপুরসহ নিরপক্ষ অঞ্চল গুলোতে সবাই যার যার মত করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।

খাটিংগা গ্রামের আল আমিন ও নয়নপুর এলাকার শান্ত বলেন,এলাকার সকল প্রার্থী চেনাজানা। তার মধ্যে ব্যক্তির অতিত কর্মকান্ড ও শান্তিপূর্ণ,সব দিকে সমিদ্ধ ইউনিয়ন যে গঠনে ভূমিকা নিতে পারবে তাকেই ভোট দিব।

স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিক কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়।মানুষ যদি নিজের ভোট নিজে দিতে পারে তাহলে ভাল গ্রহণযোগ্য মানুষকে বেছে নিবে বলেও একাধিক ভোটার জানান।

নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনে জয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে বলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক ব্যবসায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে।সে বিভিন্ন ভাবে আমার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। আমি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবী জানাচ্ছি।

ঘোড়া প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী এম অলি আহাম্মদ বলেন,ইউনিয়নের পূর্বাঞ্চলের অনেক কেন্দ্র প্রার্থীরা প্রভাববিস্তার করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমার অনেক নেতাকর্মীকে অনেকেই ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের অনুকূল নেবার চেষ্টা করছে।আমি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও ভয়ভীতিহীন একটি পরিবেশ চাই।যাথে মানুষ নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটটি নিজে দিতে পারে।ভোটারা নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে বিপুল ব্যবধানে আমার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

আনারস প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ জসিম উদ্দিন মলাই জানান,দীর্ঘ দিন আমি নির্বাচনে জয়ের ব্যপারে শতভাগ আশাবাদী। এখন পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে আমি সন্তুষ্ট। আমি আশা করব আইন-শৃঙ্খলা ও প্রশাসনের সঠিক পদক্ষেপ এ সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।