সরকারি হাসপাতালে সেবা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়

আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 8 December 2021, 79 বার পড়া হয়েছে,

মোহাম্মদ আবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর)সকাল সাড়ে এগারোটা আখাউড়ার মোগড়া ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের ১১ মাস বয়সী শিশু আজরিন কে নিয়ে তার মা সাদিয়া ও ফুফু জিম আক্তার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়।আজরিন জ্বরে ভুগছে আজ ৪ দিন যাবত।তার ফুফু জানান আজ সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে আমরা আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আজরিন কে নিয়ে যায়।হাসপাতালে বহির্বিভাগ ডাক্তার শ্যামল চন্দ্র ভৌমিক কে দেখানোর পর তিনি সাতদিনের ইনজেকশন প্রেসক্রিপশনে লিখে দেন এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত নার্স থেকে ক্যানোলা পুশ করে নিতে বলেন।

তখন বাহিরের ফার্মেসি থেকে ক্যানোলা এনে কর্তব্যরত নার্স রোকসানার হাতে দেওয়ার পর তিনি এটা পুশ করে দেন পরক্ষণে টাকা দাবি করে বলেন দেখছেন না সকলেই টাকা দিচ্ছে আপনারা টাকা না দিয়ে চলে যাচ্ছেন কেন? পরে আমরা একশত টাকা দেয় কিন্তু সে টাকায় তিনি সন্তুষ্ট না হয়ে আমাদের আরো ৫০ টাকা দিতে বলেন তারপর আমরা রিক্সা ভাড়া নেই এরকম বিভিন্ন অজুহাত দেখানোর পরেও আমাদের থেকে আরও ৫০ টাকা সহ মোট একশত পঞ্চাশ টাকা নিয়েছেন।

৫০ শয্যা বিশিষ্ট আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরোজমিনে গিয়ে জানা যায় শুধু মাত্র ভর্তি রোগীদের থেকে ক্যানোলা পুশ করতে টাকা নেওয়া হয় না। এছাড়া হাসপাতালে বহির্বিভাগে ডা: দেখানোর পরেও নার্সদের টাকা দিতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নার্স রোকসানা জানান বাহিরের রোগী হলে ২ বার পুশ করতে ২০০ আর এক বার হলে একশত পঞ্চাশ টাকা নেওয়া হয়। সরকার নির্ধারিত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন সাবেক সিভিল সার্জন এই নিয়ম চালু করে দিয়েছিলেন।এই টাকার ভাগ সকল নার্স ও আয়া খালারা পেয়ে থাকেন।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃমো:রাশেদুর রহমান রাশেদ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান হাসপাতালে ভর্তি কোন রোগীরদের থেকে এই টাকা নেওয়া হয় না।যদি বাহিরের ডাক্তার দেখানো হয় সে ক্ষেত্রে বিশ অথবা পঞ্চাশ টাকা খুশি হয়ে দিলে নার্সরা নেয়। ক্যানোলা পুশ করতে সরকার নির্ধারিত কোন পরিমাণ আছে কি না এই ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান না নেই। তবে নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

নার্সদের টাকা নেওয়ার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন জানান আমি আসার পরে এই ধরনের কোনো নির্দেশনা দেয় নি খোঁজ নিয়ে দেখবো আর কোন অভিযোগ থাকলে লিখিত দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।