বিএনপির ব্যর্থতায় ঘূর্ণিঝড়ে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক, 13 October 2021, 24 বার পড়া হয়েছে,

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বিএনপি সরকারের ব্যর্থতায় ’৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দেশে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। তবে বর্তমান সরকার দুর্যোগ প্রশমনে নানা উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি-সিপিপির পঞ্চাশ বছর ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যত দুর্যোগ আসুক, বাংলাদেশ সঠিকভাবেই তা মোকাবিলা করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। দেশে বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বিল্ডিংকোড মেনে অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশনা দেন তিনি।

১৯৭০ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ে দেশে ১০ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এর পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি -সিপিপি। দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের সেবা করায় ঘূর্ণিঝড়ে মানুষের মৃত্যু ১০ লাখ থেকে এখন প্রায় শূন্যের কোটা খালেদা জিয়াকে বিদেশ নিতে হবে: ফখরুল
সিপিপির পঞ্চাশ বছর ও আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বঙ্গবন্ধুর প্রতিষ্ঠিত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির নতুন আরও চারটি ইউনিটের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় তিনি বলেন, দেশে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারের নেওয়া যথাযথ উদ্যোগে বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম দেশ হিসেবে সারা বিশ্বে প্রশংসিত।
বিএনপি সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একানব্বইয়ের ঘূর্ণিঝড়ে দেশে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হলেও জাতীয় সংসদে মৃত্যুর সঠিক তথ্য দেননি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সবাইকে সচেতন হতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবকদের আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় কক্সবাজার প্রান্তে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় সিপিপি স্বেচ্ছাসেবকদের মহড়া।
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল। চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলের মানুষের জন্য ছিল এক ভয়ানক রাত। ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস আর প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস নিয়ে রাত প্রায় ১২টা নাগাদ উপকূলে আছড়ে পড়ে হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন প্রবল এক ঘূর্ণিঝড়।
শক্তিশালী সে ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার মানুষ মারা যায়। ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন রেখে যায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ উপকূল জুড়ে। প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। সেই উপকূল জুড়ে বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকে অসংখ্য মৃতদেহ।
১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে কয়েক বছর সময় লেগেছিল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলের মানুষের। সে ঘূর্ণিঝড়ের পর বাংলাদেশের উপকূলে প্রচুর ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।