ফরিদপুরে মধুমতি নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলী জমি ও রাস্তাঘাট

ফরিদপুর, 2 September 2021, 111 বার পড়া হয়েছে,

গত কয়েকদিন ধরে আবারও পদ্মার পানি বেড়েই চলেছে। বর্তমানে বিদৎসীমার ৫২ সে. মি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নি¤œাঞ্চল প্লাবনের পাশা-পাশি ভাঙন হচ্ছে মধুমতি, আড়িয়াল খা এবং পদ্মায়। প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে ফসলী জমি, রাস্তাঘাট, গাছপালা, বসতভিটা।

ফরিদপুর পাউবো জানিয়েছে, পদ্মায় গোয়ালন্দ পয়েন্টে গত ২৪ ঘন্টায় পদ্মার পানি বেড়েছে ৩ সে. মি.।বর্তমানে এই নদী পানির উচ্চ তা ৯.১৮ মিটার যা বিপৎসীমার ৫২ সে.মি মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ১৫দিন যাকৎ পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে।

এখনো জেলা সদর, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নের দেড়শতাধিক গ্রামে ফসলী ক্ষেত, রাস্তা, নিচু এলাকার বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। এছাড়াও নদী ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে মধুখালী, আলফাডাঙ্গা ও সদরপুরের বিভিন্ন অংশে।

সরকারিভাবে এই সকল এলাকায় ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এছাড়াও নগদ অর্থ শিশু খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, পানিবন্দী মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে আমাদের কাছে।

তিনি আরো বলেন বন্যার্তদের জন্য আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, প্রয়োজনে দুর্ভোগের মানুষদের সেখানে নেয়া হবে।

এদিকে মধুমতি ও আড়িয়াল খাঁয় বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে ফসলের জমি সহ বিভিন্ন স্থাপনা।

মধুখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মুরাদ হোসেন জানান, মধুখালী উপজেলার কামারখালী নামক এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর বাড়ি যাওয়ার একমাত্র সড়কটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে, ওই এলাকায় যাতায়াত কঠিক হয়ে গেছে। এছাড়াও এ উপজেলার মধুমতির তীরের ৫টি গ্রাম মধুমতি ভাঙনের শিকার।

আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদ হাসান জানান, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি নদী এ উপজেলার পাচুরিয়া ও গোপালপুর ইউনিয়নের ৭টি গ্রামে ভাঙছে। তিনি বলেন, নদীর গর্ভে চলে গেছে গোপালপুরর বাসতলা সড়ক। হুমকির মুখে রয়েছে দুইটি স্কুলসহ অসংখ্য বসতভিটা।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম সাহা জানান, মধুমতির এবং আড়িয়াল খায় ভাঙন প্রবল এলাকায় অস্থায়ী বাধ তৈরীতে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। আমরা এই নদীতে স্থায়ী বাধ দেওয়ার জন্য প্রকল্প তৈরী করে মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি। সেটি অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।