খুলছে কলকারখানা : ভোগান্তি সঙ্গী করে ঢাকায় ঢুকছে মানুষ

অর্থনীতি, 31 July 2021, 47 বার পড়া হয়েছে,

আগামীকাল রবিবার (১ আগস্ট) থেকে গার্মেন্টস ও অন্যান্য কলকারখানা খুলছে। এ কারণে আজ শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফিরছেন। সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের মধ্যে রাজধানীতে ফেরা মানুষকে পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। সেই সঙ্গে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।
আজ শনিবার (৩১ জুলাই) দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের প্রবেশপথ ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের আশপাশের এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, রিকশা ও পিকআপ ভ্যানে করে মানুষ রাজধানীতে ঢুকছে। দলে দলে হেঁটেও ঢাকায় ঢুকছে মানুষ।
এদিকে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।
ঢাকায় ফেরা মানুষরা জানিয়েছেন, তাদের ফোন করে জানানো হয়েছে, ১ আগস্ট থেকে গার্মেন্টস খুলছে। তাই চাকরি বাঁচাতে পথে সীমাহীন ভোগান্তি পাড়ি দিয়ে চলে এসেছেন তারা। ভাড়াও গুনতে হয়েছে কয়েকগুণ বেশি। বাস চালু না করে হঠাৎ করে শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার এ সিদ্ধান্তে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
শনিবার সকাল থেকে সাইনবোর্ড এলাকায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড় লেগে আছে। তাদের হাতে-মাথায়-কাঁধে ব্যাগ। তাদের মধ্যে অসংখ্য নারী-শিশু।
ঢাকায় ফেরাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস বন্ধ থাকায় লোকজন মূলত ভেঙে ভেঙে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, অটোরিকশা, হেঁটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। অনেকেরই গন্তব্য টঙ্গী, গাজীপুর, আশুলিয়ার পোশাক কারখানা অধ্যুষিত এলাকা।
সাইনবোর্ডে এসেও তারা পড়েছেন বিপদে। ভ্যানগাড়ি ছাড়া নেই কোনো গাড়ি। পুলিশের ভয়ে দূরে দূরে থেকে এলাকার মধ্য দিয়ে চলছে অটোরিকশা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে সাইনবোর্ড থেকে যাত্রাবাড়ীর দিকের সড়কে মানুষের সারি দেখা গেছে। তারা যানবাহনের অভাবে হেঁটেই যাচ্ছেন গন্তব্যে। বেশিরভাগই ভ্যানগাড়িতে গাদাগাদি করে যাচ্ছেন।
মকবুল হোসেন এসেছেন চাঁদপুর থেকে। তিনি বলেন, ‘আমরা থাকি নারায়ণগঞ্জে। সেখানে গার্মেন্টসে কাজ করি। ভাইঙা ভাইঙা অনেক কষ্ট করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘অফিস থেকে ফোন করছে, কাইল থেকে খোলা। তাই না আইসা উপায় নাই। এখন এহানতে (সাইনবোর্ড) ক্যামনে নারায়ণগঞ্জ যামু, হেই চিন্তা করতাছি ভাই।’

রামপুরার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন আবির হোসেন। তিনি বলেন, আগামীকাল (১ আগস্ট) থেকে গার্মেন্টস খুলবে। চাকরি বাঁচাতে মাদারীপুর থেকে লকডাউনের মধ্যেই ঢাকায় ফিরতে হচ্ছে। লকডাউন চলছে, তাই রাস্তায় বাস নেই। ছোট ছোট গাড়িতে ভেঙে ভেঙে এসেছি। ভোগান্তি ও ভাড়া দুটোই বেশি গেছে।
সাভারের একটি গার্মেন্টেসে কাজ করেন সোহেল। তিনি স্ত্রী ও ছোট বাচ্চা নিয়ে এসেছেন কুমিল্লা থেকে। তিনি বলেন, ‘পিকআপে করে ঝুঁকি নিয়ে আসছি। উপায় তো নেই। হঠাৎ করে গার্মেন্টস খুলে দেয়ার সিদ্ধান্তটা একেবারেই ঠিক হয়নি। ফ্যাক্টরিতে আসতে শ্রমিকদের ভোগান্তির শেষ নেই।’
সাইনবোর্ড চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করা যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) আয়ান মাহমুদ দীপ বলেন, আমি বিধিনিষেধের প্রথম দিন থেকেই এখানে ডিউটি করছি। এত মানুষের ভিড় আর দেখিনি। আজ ঢাকাগামী মানুষের ঢল নেমেছে। এখানে কোনো গাড়ি নেই। এত মানুষ কীভাবে আটকাবো! এরা সবাই প্রায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। গার্মেন্টস খুলে দেয়া হয়েছে, এ জন্যই এই ভিড় বলে মনে হচ্ছে।
করোনার সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। এই বিধিনিষেধ চলবে আগামী ৫ আগস্ট মধ্যরাত পর্যন্ত।
বিধিনিষেধে সব ধরণের গণপরিবহন, সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ আছে। খাদ্যপণ্য উৎপাদন-প্রক্রিয়াকরণ, চামড়া পরিবহন-সংরক্ষণ ও ওষুধ খাত ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব ধরণের শিল্পকারখানা।
তবে পোশাক কারখানা সব ধরনের শিল্প-কারখানা খুলে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান মালিকরা। গত ২৯ জুলাই সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এ দাবি জানান।
এর পরই শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প ও কলকারখানা আরোপিত বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো।