কোরবানির হাট কাঁপাবে টাঙ্গাইলের মানিক-রতন

টাঙ্গাইল, 13 July 2021, 129 বার পড়া হয়েছে,

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আসন্ন কোরবানি ঈদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে মানিক-রতন। এই নাম কোন মানুষের নয়। ৩৬ ও ৩৫ মণ ওজনের দুটি গরুর নাম মানিক-রতন। দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা বিশালাকৃতির গরু দুটি লালন-পালন করে বড় করে তুলেছেন নাগরপুর উপজেলার গাজুটিয়া সিঙ্গুরিয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হামিদ আলীর অনার্স পড়ুয়া মেয়ে হামিদা আক্তার। জেলার সবচেয়ে বড় দুটি গরু দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ ভীড় করছেন তাদের বাড়িতে।

এবারের ঈদুল আজহায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে কোরবানির হাট কাপাবে মানিক-রতন। গরু দুটি এবারের কোরবানির হাটে বিক্রি করে নিজের একটি খামারের স্বপ্ন দেখছেন এর মালিক ফাতেমা আক্তার। তিনি ৩৬ মণ ওজনের মানিকের দাম চাচ্ছেন ১৪ লাখ টাকা আর ৩৫ মণ ওজনের রতনের দাম চাচ্ছেন ১৩ লাখ টাকা।

মানিক রতনের আয়েশি চলন-বলন আর খাবারের পসরা দেখেই মনে হবে যেন এক বিশাল রাজকীয় ব্যাপার। মানিক-রতনের সবচেয়ে প্রিয় খাবার হচ্ছে মিষ্টি আলু ও কলা।

জানা যায়, হামিদা তার পরিবারের সদস্যদের মতো অতিযতেœ চার বছর যাবত লালন-পালন করছেন অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় দুটিকে। যেহেতু তাদের বাড়িতেই ষাঁড় দুটির জন্ম। এ জন্য আদর করে তাদের নামও রেখেছেন মানিক-রতন। তবে নামের সঙ্গে ষাঁড় দুটির, খাবার দাবার ও আচার-আচরণেও রয়েছে বেশ মিল। তাদের থাকার ঘরে রয়েছে দুটি সিলিং ফ্যান আর মশারী। তাদের নিয়মিত খাবারের তালিকায় রয়েছে খড়, ভুসি, কাঁচা ঘাস, মালটা, পেয়ারা, কলা, মিষ্টি কুমরা ও মিষ্টি আলু। রোগ জীবানুর হাত থেকে বাঁচতে প্রতিদিন তাদেরকে সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়। তাদের প্রতিদিন দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন আসছেন। আর খামার করার পরামর্শ নিচ্ছেন।

হামিদা বলেন, মানিক-রতনকে আমরা চার বছর যাবত লালন-পালন করে আসছি। গত বছরও কোরবানির হাটে বিক্রি করিনি। তাদেরকে অতি যত্নে লালন-পালন করেছি। নাম ধরে ডাকলে মাথা ও কান নাড়িয়ে সাড়া দেয়। যেহেতু সারাদেশে সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে সেজন্য এর ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কিত। আমরা বাড়ি থেকেই তাদের বিক্রি করার চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে আমরা নিজ খরচে তাদের বাড়ি পৌছে দিব।

এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. সোহেল রানা বলেন, আসন্ন কোনবানির ঈদকে সামনে রেখে বেশ কয়েকজন খামারি কিছু বড় ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। তার মধ্যে গাজুটিয়া এলাকার হামিদ মাস্টারের মানিক-রতন অন্যতম। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতি অবলম্বন করে ষাঁড়দুটি ঈদুল আজহার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন ন্যায্য মূল্য পেলে খামার মালিকরা উপকৃত হবেন। আর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারনে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের মাধ্যমে আমরা অনলাইন কোরবানির হাট নাগরপুর নামে একটি পেজ খুলেছি। তার মাধ্যমেও খামারীরা তাদের গরু-ছাগর বিক্রি করতে পারবে।