অর্ধেক যাত্রীতে চলতে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া চান মালিকেরা

জাতীয়, 30 March 2021, 38 বার পড়া হয়েছে,

রাইট টাইমস ডেস্কঃ
অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস-মিনিবাস চালাতে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়তি নিতে চান মালিকেরা। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সোমবার গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলার নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।
পরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে (বিআরটিএ) বৈঠকে এমন দাবি করা হয়েছে।

রাতেই এই দাবি প্রস্তাব আকারে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছে বিআরটিএ। মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন মিললে গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া কার্যকর হবে।

দেশে গত বছর করোনা প্রাদুর্ভাবের পর অর্ধেক যাত্রী নিয়ে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সরকার। তখনো বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।
বছর গড়িয়ে সংক্রমণ আবার বাড়তে থাকায় আজ ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এক দফায় বলা হয়েছে, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণক্ষমতার অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সন্ধ্যায় মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসে বিআরটিএ।

এই বৈঠকে বাস-মিনিবাস ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় বলে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) সীতাংশু শেখর বিশ্বাস জানিয়েছেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতউল্যাহ। তিনি বলেন, সরকার যেই সিদ্ধান্ত দেবে, মালিক-শ্রমিকেরা তা পালন করবেন।

উচ্চ সংক্রমণযুক্ত এলাকায় সব ধরনের জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিয়ে বা জন্মদিনসহ যে কোন সামাজিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে হবে;

খ) মসজিদসহ সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিতকরতে হবে

গ) পর্যটন, বিনোদন কেন্দ্র, সিনেমা হল ও থিয়েটার হলে জনসমাগম সীমিত করতে হবে এবং সব ধরণের মেলা আয়োজন নিরুৎসাহিত করতে হবে

ঘ) গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং ধারণ ক্ষমতার ৫০ ভাগের অধিক যাত্রী পরিবহন করা যাবে না

ঙ) সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতে আন্তজেলা যান চলাচল সীমিত করতে হবে; প্রয়োজনে বন্ধ রাখতে হবে

চ) বিদেশ হতে আগত যাত্রীদের ১৪ দিন পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক (হোটেলে নিজ খরচে) কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে

ছ) নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী খোলা বা উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি পরিপালনপূর্বক ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবস্থা করতে হবে; ওষুধের দোকানে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে

জ) স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানসমূহে মাস্ক পরিধানসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে

ঝ) শপিং মলে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে

ঞ) সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়) ও কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে

ট) অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা বা আড্ডা বন্ধ করতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাত ১০ টার পরবাইরে বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে

ঠ) প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক পরিধানসহ সকল ধরণের স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে। মাস্ক পরিধান না করলে কিংবা স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে

ড) করোনায় আক্রান্ত বা করোনার লক্ষণযুক্ত ব্যক্তির আইসোলেশন নিশ্চিত করতে হবে। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠসংস্পর্শে আসা অন্যান্যদেরও কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে

ঢ) জরুরি সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস/ প্রতিষ্ঠান/ শিল্প কারখানাসমূহ ৫০ ভাগ জনবল দ্বারা পরিচালনা করতে হবে
গর্ভবতী, অসুস্থ এবং বয়স ৫৫-ঊর্ধ্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাড়িতে অবস্থান করে কর্মসম্পাদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে

ণ) সভা, সেমিনার, প্রশিক্ষণ, কর্মশালা যথাসম্ভব অনলাইনে আয়োজনের ব্যবস্থা করতে হবে

ত) সশরীরে উপস্থিত হতে হয় এমন যে কোন ধরণের গণপরীক্ষার ক্ষেত্রে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে

থ) হোটেল-রেস্তোরাঁসমূহে ধারণ ক্ষমতার ৫০ ভাগের অধিক মানুষের প্রবেশ বারিত করতে হবে

দ) কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ এবং অবস্থানকালীন সর্বদা বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধানসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

  • 3
    Shares