বিজয়নগরে আলাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বোবা কান্না

বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 16 March 2021, 231 বার পড়া হয়েছে,

রাইট টাইমস ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় ৯নং চরইসলামপুর ইউনিয়নস্থ আলাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সৌরবিদুৎ, প্রজেক্টর, ব্লুটুথ স্পীকার, ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। সরকারী বই বিতরণ ও ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি না করে, স্কুল কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে দেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ নিয়মিত অফিস কক্ষ খোলা রাখেন না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহনেওয়াজ পারভীন, সহকারী শিক্ষা অফিসার মনসুর আহমেদ, প্রধান অফিস সহকারী মোঃ শাহজাহান, উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুর রহমান,আব্দুল্লাহ আল সাইদ তাদের যোগসাজসে যোগদাকৃত সহকারী শিক্ষিকা ফাহমিদা আক্তার ডলি যোগদানের পর হতে অধ্যাবধি স্কুলে হাজির না থেকেও সরকারী বেতন/ভাতা উত্তোলন করেছেন।
সরেজমিনে ১৩ই মার্চ ২০২১ ইং রোজ শনিবার বেলা ১১ টার সময় বিদ্যালয়ে ঘুরে দেখা যায়, উক্ত বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও একজন দপ্তরী ব্যতিত আর কাউকে পাওয়া যায় নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসী অভিযোগ তুলে বলেন , বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ নিয়মিত স্কুলে আসে না। এমনকি পড়াশুনার মানও অনেক নিম্ম। বিদ্যালয়ের সৌরবিদুৎ, প্রজেক্টর, ব্লুটুথ স্পীকার, ল্যাপটপ প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। সরকারী বই বিতরণ ও ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি না করে, স্কুল কক্ষে তালাবদ্ধ অবস্থায় রেখে দেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকগণ বিদ্যালয়ে আসে না। নিয়মিত অফিস কক্ষ খোলা রাখেন না। সহকারী শিক্ষিকা ফাহমিদা আক্তার ডলি স্বামী হাসনাত সরকার,সাং ফুলবাড়িয়া, ইউপি পত্তন, ১৯ শে ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং যোগদান করার পর দুই দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। এর পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহনেওয়াজ পারভীন, সহকারী শিক্ষা অফিসার মনসুর আহমেদ, প্রধান অফিস সহকারী মোঃ শাহজাহান, উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুর রহমান,আব্দুল্লাহ আল সাইদ তাদের যোগসাজসে উক্ত শিক্ষিকা এ যাবৎ সরকারী টাকা অবৈধভাবে উত্তোলন করে নিজ হেফাজতে নিয়ে যান। অভিযোগে আরো জানা যায়, উক্ত শিক্ষিকা বিগত সময়ে প্রবাসে ছিলেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে বক্তব্য নিতে গেলে তিনি সাংবাদিকদেরকে বিভিন্ন মাধ্যমে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
এ বিষয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ লোকমান মেম্বার জানান, ফাহমিদা আক্তার ডলি যোগদানের পর দুই দিন বিদ্যালয়ে এসে ছিলেন, আর বিদ্যালয়ে আসেন নাই। বিদ্যালয়ের স্লীপের/বরাদ্ধকৃত টাকার কোন কাজ করেন নাই। এমনকি প্রধান শিক্ষক তার স্বাক্ষর জাল-জালিয়াত করে যাতবীয় কাজ চালাচ্ছেন,কোন বিষয়ে তাকে অবহিত করেন নাই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়গুলো জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিয়াছি। তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন ফাহমিদা আক্তার ডলি বিদ্যালয়ে উপস্তিত না থেকে অবৈধভাবে বেতন উত্তোলন করে নিয়ে গেছেন জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনসুর আহমেদের নিকট বিগত এক বছর যাবৎ উক্ত বিদ্যালয় পরিদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন সদোত্তর দিতে পারেন নাই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইয়াসির আরাফাতের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখ জনক । বিষয়টি সুষ্ঠ দতন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। (চলমান)

  • 38
    Shares