ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যৌতুকের বলি হলেন গৃহবধূ শারমিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, 7 March 2021, 459 বার পড়া হয়েছে,

মোঃ মাইনুদ্দিন চিশতীঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চানপুর উত্তর জগৎসারে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকদের হাতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা দুই সন্তানের জননী শারমিন আক্তার (২৬) নামে এক গৃহবধূকে প্রাণ দিতে হলো।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টার সময় এ ঘটনা ঘটে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, শারমিন আক্তারের স্বামী আলম মিয়া ও তার বাড়ির লোকজন প্রায়ই যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করতেন। কয়েক দফা বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার পরও ক্ষান্ত হননি স্বামী আলম মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন, ঘটনার দিন রাত্রে পিত্রালয় হতে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন স্বামী আলম মিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। টাকা আনতে অপারগতা স্বীকার করায় ক্ষেপে যান যৌতুকলোভী পরিবারের সদস্যরা। টাকা এনে দিতে না পারায় প্রাণে মারার জন্য ব্যাপক মারপিট করেন। এক পর্যায় গৃহবধূ শারমিনের শরীরে স্প্রিট জাতীয় পদার্থ ঢেলে আগুন লাগিয়ে ঘরের বাহির হতে দরজা লাগিয়ে দেয়। অগ্নিদগ্ধ শরীর নিয়ে শারমিন প্রাণে বাঁচার জন্য পেছনের ঘরের দরজা দিয়ে বাহির হইয়া পাশের বাড়ির ময়লা পানির গর্তে পরে গিয়ে প্রাণ বাঁচাতে চেষ্টা করেন। তার পরেও ক্ষান্ত হয়নি পাষণ্ড খুনিরা প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে রামদা নিয়ে দৌড়েযায়। পরে এলাকার লোকজন ঘটনাটি দেখতে পায়। এলাকার মানুষ শারমিন আক্তারকে গুরুতর অবস্থা দেখে শারমিন আক্তারের পিত্রালয়ে মোবাইল ফোনে খবর জানালে পিত্রালয় হইতে লোকজন এসে দেখতে পান সারা শরীর ঝলসে গেছে, অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে শারমিন । চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় শারমিন আক্তার এর বাবার বাড়ির লোকজন। কর্তব্যরত চিকিৎসক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার্ড করেন উন্নত চিকিৎসার জন্য। ঢাকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় শারমিন আক্তারের বাবা মোঃ গেদু মিয়া মেয়ের উপর নির্যাতনের বিচার চেয়ে পাঁচজনকে আসামি করে আসামিরা হলেন প্রধান আসামি আলম মিয়া, তার ভাই নুরুল ইসলাম, দুলাল মিয়া, সোনিয়া বেগম, ও কবিতা বেগম,দের আসামি করে বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় ওসি বরাবর ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় একটি মামলা দাখিল করেন। মামলাটি তদন্তাধিন, তদন্ত শেষ হতে না হতেই গত ৪/৩/২০২১ বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করে শারমিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
অথচ শারমিনের বাবার দেওয়া অভিযোগটি সদর মডেল থানায় রেকর্ড হয়নি। মৃতমেয়ের ময়নাতদন্ত ও দাফন সম্পন্ন করে হত্যা মামলা নিয়ে থানায় গেলে গ্রহণ করেনি ওসি। আগুনে পুড়িয়ে নির্যাতনে হত্যা মামলা গ্রহণ না করার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আব্দুর রহিমের সাথে আলাপ কালে তিনি এই মামলার বিষয় কিছু বলতে পারবে না বলে প্রকাশ করেন।

Leave a Reply