বিজয়নগরে হলুদ সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহবান

বিজয়নগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, 13 January 2021, 43 বার পড়া হয়েছে,

সাংবাদিকতা হচ্ছে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সম্মানজনক পেশা। সে জন্যই সাংবাদিকদের সমাজের অতন্দ্র প্রহরী বা ‘গেট কিপারস’ বলা হয়। তাছাড়া সাংবাদিক সমাজ জাতির বিবেক হিসেবে চিহ্নিত। যারা রাষ্ট্র, সমাজ ও মানুষকে নিরলসভাবে সেবা দেন। সাংবাদিকতা পেশার অন্যতম লক্ষ হওয়া চাই সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবাধিকার সংরক্ষণ, অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধোচারণ, অসহায়, অধিকার বঞ্চিত দূর্বল জনগোষ্ঠীর পক্ষধারণসহ সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা। ব্রাহ্মণ্বাড়ীয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় দিন দিন বেড়েই চলছে কথিত হলুদ সাংবাদিকের দৌরাত্ন। রাস্তায় বের হলেই চোখে পড়ে সাংবাদিক লিখা স্টিকার লাগিয়ে কথিত এসব সাংবাদিকরা নাম্বারবিহীন মোটরসাইকেল নিয়ে দাপড়িয়ে বেরাচ্ছে পুরো বিজয়নগর এলাকা। যাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন ? এমনও কথিত সাংবাদিক রয়েছে যাদের মানসম্পন্ন কোন খবরের কাগজে নিয়োগ নেই। তারা নিজেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, চটকদার নামের ইউটিউব চ্যানেল, বিভিন্ন নামে অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলে কোন রকম নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেরাই আইডি কার্ড তৈরি করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক/দেড় হাজার টাকার বিনিময়ে সাংবাদিক কার্ড বিক্রি করে চলছেন।

এসব কথিত সাংবাদিকরা হলেন টাউট বাটপার বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মের সঙ্গে জড়িত যাদের সামাজিক গ্রহন যোগ্যতার পাশাপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সচেতন নাগরিক সমাজে রয়েছে নানা কৌতুহল? কথিত এসব সাংবাদিকদের কারনে জাতীয় দৈনিক প্রত্রিকায় নিয়োগ প্রাপ্ত সাধারন মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধাভাজন প্রকৃত সাংবাদিকরা এখন কোনঠাসা হয়ে পড়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গণহারে বেড়ে যাওয়া লেবাসধারী এসব লোকেরা রাস্তায় বাহির হলেই বীরদর্পে অকপটে পরিচয় দেয় আমিও সাংবাদিক। যার ফলে সাধারন মানুষ সংবাদ কর্মীদের এখন উপহাস করে অকপটে বলে ফেলেন ঐ যে সাংঘাতিক। তাছাড়া এসব কথিত সাংবাদিকদের ফাঁদে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এ নিয়ে গত ১১ই জানুয়ারী বিজয়নগর উপজেলার আইন শৃংখলা সভায় বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি জাহাঈীর আলম রমজান হলুদ সাংবাদিকদের সম্পর্কে প্রেসক্লাব বিজয়নগর সভাপতি মৃনাল চৌধুরী লিটনের নিকট তাদের পরিচয় জানতে এবং অনুষ্টানের প্রধান অতিথি র আ ম উবাইদুল মোক্তাদির চৌধুরী নিকট তাদের বিরোদ্বে ব্যাবস্তা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেন । তিনি অভিযোগ করে বলেন, কতিপয় লোকজন আবার সাংবাদিক পরিচয়ে সংবাদ প্রকাশের কথা বলে অর্থ আদায়, দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, মোটরসাইকেলে সাংবাদিক লিখে নিজেদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কথিত সাংবাদিকদের দৌরত্ব বেরে যাওয়ায় যেকোন সভামঞ্চে, রাজনৈতিক ময়দানে, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে, মিলাদ মাহফিল, স্বরণ সভায় যে কোন অনুষ্ঠানে বিনা আমন্ত্রনে কথিত এসব সাংবাদিকদের উপস্থিতির কারনে রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, সচেতন নাগরিক সমাজ বিরক্ত ।

কথিত এসব সাংবাদিকরা প্রকৃত পক্ষে সমাজের নানা অসঙ্গতি, অনিয়ম, দূর্ণীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, দখল, ভরাট, মাদক সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, ভূমি সন্ত্রাস, পরিবেশ দূষণ, সামাজিক অবক্ষয়, লুটতরাজ, নদী দখল নিয়ে অনুসন্ধানী কোন প্রতিবেদন তৈরী করার কোন যোগ্যতা তাদের নেই। তাদের অভিযোগ, অল্প শিক্ষিত বিজয়নগরে অনেক হলুদ সাংবাদিকরা কিছু নাম সর্বস্ব পত্রিকার কার্ড বুকে-পিঠে ও কোমরে ঝুঁলিয়ে থানা, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন পূর্বক চাঁদাবাজি ও নানা কাজের তদবিরসহ বীরদর্পে অনেক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক সাধারন মানুষ ভুয়া সাংবাদিকদের হয়রানির শিকার হয়ে ভয় আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। ।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভুয়া সাংবাদিকরা ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক ও সাপ্তাহিক পত্রিকায় ভুয়া পরিচয়পত্র মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে কিনে এনে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। পরে এসব কথিত সাংবাদিকরা সমাজের অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিকে হেয় প্রতিপন্ন করে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফেসবুকে দু-চার কথা অথবা নাম সর্বস্ব পত্রিকায় মনগড়া বক্তব্য লিখে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তাছাড়া কথিত এসব সাংবাদিকরা প্রতিদিন থানায় ঘুরাঘুরি করে থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন অপকর্মের তদবির করে দাপটের সঙ্গে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে। ফলে অসহায় হয়ে পড়েছেন সরকারি ও বে-সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। কোথাও কোন রকম জবাবদিহিতা না থাকায় এবং কেউ কোন প্রতিবাদ না করায় হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম দিনদিন বেড়েই চলেছে। অপর দিকে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে নিজেকে দাপটের সঙ্গে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কর্মকর্তাদের নিকট ব্যাক্তিগত সুযোগ খুজার অভিযোগ রয়েছে। এসব হলুদ সাংবাদিকদেরএসব হলুদ সাংবাদিকদের চাঁদাবাজীতে অতিষ্ট বিজয়নগরের সচেতন মহল। তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রসাশন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রকৃত সংবাদকর্মীদের ভাবমুর্তি ক্ষুন্য হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক মহল ও সুশীল সমাজ। বিজয়নগর উপজেলার ভুয়া সাংবাদিকদের বিষয়ে সাধারন মানুষ মুখ খুললেও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। প্রশাসনের দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিজয়নগরে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে ভুয়া এসব সাংবাদিকরা।

স্থানীয় একজন সিনিয়র সংবাদকর্মী আক্ষেপ করে বলেন, প্রথম সারির জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ব্যতিত অন্য যে কোন পত্রিকায় কাজ করতে এখন আর শিক্ষা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। । নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভেলপমেন্ট নিকট থেকে ২০০০ /২৫০০ টাকা দিয়ে একটি পোর্টাল তৈরি করে তারা বনে যায় সাংবাদিক । তখন তারা নিজেরাই সাংবাদিক পরিচয় পএ টাকার বিনিময়ে হোটেল বয় মাদক কারবারী বেকারী কর্মচারী আবার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে একাধিক লোকজনকে টাকার বিনিময়ে আইডি কার্ড সরবরাহ করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন রাজনৈতিক কর্মী বলেন, প্রতিদিন থানার সামনে দেখবেন সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি সন্ধ্যার পর ঘুর ঘুর করে। ওরা সাংবাদিক পরিচয়ে থানায় গিয়ে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মামলার তদবিরও করে। এই সমস্ত অভিযোগ শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া 3 আসনের সংসদ সদস্য বিজয়নগর উপজেলার স্থপতি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন এই সমস্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে প্রশাসনসহ সকলকে সচেতন হতে হবে এবং তাদেরকে সঠিকভাবে সার্চ করলে পরিচয় বাহিরে হয়ে আসবে এসময় বিজয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম ইয়াসির আরাফাত উপস্থিত ছিলেন এ বিষয়ে প্রেসক্লাব বিজয়নগরে সভাপতি মৃনাল চৌধুরী লিটন বলেন হলুদ সাংবাদিকতা সাংবাদিক আহ্বায়ক হিসেবে তিনি পরিচয় দেন তার লেখাপড়া নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে তিনি নিজেকে আবার মানবাধিকারকর্মী বলে পরিচয় দেন অথচ তিনি তার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বিজয়নগর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন ও বিজয়নগর থানা কে তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছি কিন্তু প্রশাসন অদৃশ্য কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না এ হলো সাংবাদিকরা৷ বিজয়নগর উপজেলার স্থপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করেছে এছাড়া র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে লেখালেখি করার জন্য গত দুই মাস পূর্বে কচুয়া মোড়া থেকে একজন ছাএদল নেতাকে বিজয়নগর থানায় গ্রেফতার করলে পাহাড়পুর ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এই হলুদ সাংবাদিকদের থানায় নিয়ে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তাই আজ আমি দানী করব হলুদ স্কুল বিরোদ্বে আইনী ব্যাবস্তা গ্রহনের জন্য

একজন সিনিয়র রাজনৈতিক নেতা জানান, যে কোন সভামঞ্চে এখন সংবাদ কর্মীদের উপস্থিতি প্রয়োজনের তুলনায় অনেকটা বেশি। আগের মত এখন আর নেতাকর্মীরা সংবাদকর্মীদের তেমন মূল্যায়ন করে না। সংবাদ কর্মীদের আচরনে এখন মানুষ অনেকটা বিরক্ত বটে। আবার কতিপয় লোকজন সাংবাদিকতার নামে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কাজ করছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেবার নামে প্রতারণাও করছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সাংবাদিকদের উপর থেকে আস্থা হারাচ্ছে। তিনি বলেন, এ থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। প্রশাসন চাইলে পেশাদার সাংবাদিকদের সহযোগিতায় হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে পারে ।

  • 7
    Shares