১৩ জেলায় বন্যার আরও অবনতি

গাইবান্ধা, সারাদেশ, 22 July 2020, 121 বার পড়া হয়েছে,

গত দু’দিনের অবিরাম ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, সুরমা, কুশিয়ারাসহ প্রধান নদনদীতে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে উত্তরের জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোর, পূর্বাঞ্চলের জেলা সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং মধ্যাঞ্চলের জেলা মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকার দোহার, রাজবাড়ী, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। কোথাও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে পানিবন্দি মানুষের দুর্দশা চরমে উঠেছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও গোখাদ্যের সংকটে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে ২০ জেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। আগামী দু-তিন দিন ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে এসব জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। প্রতিনিয়ত চোখের সামনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীতীরের মানুষের ভিটেমাটি, সহায়-সম্বল। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বানভাসি মানুষ। নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
মানিকগঞ্জ :মানিকগঞ্জে পদ্মা ও যমুনার পানি হ্রাস পেলেও শাখা নদীর পানি বেড়েই চলছে। এতে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। এদিকে বন্যার পানি, অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে বানভাসিদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হরিরামপুর, দৌলতপুর, শিবালয়, ঘিওর, সাটুরিয়া ও সদর উপজেলার একাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে।
মুন্সীগঞ্জ :পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে মুন্সীগঞ্জের চারটি উপজেলার নদীতীরবর্তী শতাধিক গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম, শ্রীনগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম ও সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।
দোহার (ঢাকা) :পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধিতে ঢাকার দোহার উপজেলার ৩০টি গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে নতুন নতুন জনপদ প্লাবিত হওয়ার খবর আসছে। মঙ্গলবার বন্যা পরিস্থিতিতে দেখা যায়, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের সবক’টি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) :সরিষাবাড়ীতে ঝিনাই নদীর ওপর স্থাপিত সেতুর একাংশ বন্যার পানির তোড়ে দেবে গেছে। এতে ১৫ গ্রামের মানুষের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর গ্রাম এলাকার মধ্যে প্রবাহিত ঝিনাই নদীর এই সেতুটির মাঝামাঝি ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডারসহ দুটি পিলার প্রায় এক ফুট দেবে যায়।
রংপুর :তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তীব্র স্র্রোতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গঙ্গাচড়া উপজেলার দুই ইউনিয়নের অর্ধশত ঘরবাড়ি, ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
লালমনিরহাট :জেলার সব নদনদীর পানি আবারও বাড়ছে। ফলে মঙ্গলবার হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানীতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
নাটোর :আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নাটোরের সিংড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
নেত্রকোনা :গত সোমবার থেকে ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলায় বিভিন্ন নদনদীর পানি ফের বাড়তে শুরু করেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নিম্নাঞ্চলে পানি জমে থাকায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
সিলেট :গত সোমবার থেকে টানা বর্ষণের ফলে সুরমা-কুশিয়ারার পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ :দুই দফায় যমুনার পানি বৃদ্ধিতে বন্যার পাশাপাশি ভাঙনের তীব্রতা শুরু হয়েছে। জেলা সদর, কাজীপুর, বেলকুচি এবং এনায়েতপুর থানা এলাকায় যমুনার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
সুনামগঞ্জ :সুনামগঞ্জে তৃতীয় দফায় আবারও বন্যা দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ শহর, তাহিরপুর

জগন্নাথপুর, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
রাজবাড়ী :রাজবাড়ী সদর, কালুখালী, পাংশা ও গোয়ালন্দ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন।
গাইবান্ধা :গাইবান্ধায় তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি বেড়েই চলেছে। ফলে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার বন্যা উপদ্রুত এলাকার ঘরবাড়ি এখনও পানিতে নিমজ্জিত।
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) :দ্বিতীয় দফা বন্যার পানিতে ভাসছে চিলমারী। প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি।

  • 21
    Shares