করোনার কারণে স্মার্টফোন নির্ভর জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হচ্ছে মানুষ: ড্যামন ইয়াং

টেকনোলজি, 22 July 2020, 214 বার পড়া হয়েছে,

ড্যামন ইয়াং: এখানকার বাজারে শক্ত প্রতিযোগিতা রয়েছে এবং গ্রাহকরা নিত্যনতুন উদ্ভাবন নিয়ে বেশ আগ্রহী। এ কারণে বাংলাদেশের স্মার্টফোন বাজার বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে এই চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক কারণ আমরা নিজেদের দক্ষতা এখানে তুলে ধরতে পারছি। এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছু ডিভাইস এনেছি যা গ্রাহকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং প্রতিযোগিতার কারণে আমরা এখানে সংযোজন কারখানা স্থাপন করেছি। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে বাজারের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সরকারও মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করছে। মোবাইল বাজারের প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ সেবায় আরও সহনীয় শুল্ক কাঠামোর জন্য আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে স্মার্টফোন গ্রাহক দ্বিগুণ হবে যা গ্রাম ও নগরের মানুষের আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্রের হার হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে আমরা মনে করি। স্মার্টফোনের কল্যাণকর দিকগুলো সবার সামনে তুলে ধরে সচেতন করার বিষয়টিও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়নে পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চাইলে আমাদের অন্যান্য শিল্পকে প্রস্তুত করার পাশাপাশি কার্যকর ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রভাব থেকে উত্তরণে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকার কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ড্যামন ইয়াং: কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিসহ সমাজের সকল অংশীজনদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাইজেশনের জন্য বাংলাদেশ একটি ইকোসিস্টেম তৈরি করছে যা এই পরিস্থিতিতে দেশের সামগ্রিক অবস্থা পাল্টে দিতে পারে। যেহেতু মোবাইল ফোন ব্যবহার করে দেশের ৯০ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়, তাই ডিজিটাইজেশনের পদক্ষেপ সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করতে সহায়ক হবে।
সংক্রমিতদের শনাক্তকরণের মাধ্যমে সম্পদের কার্যকর বরাদ্দের সহায়তার পাশাপাশি কোভিড-১৯ কার্ভ নিম্নমুখী করতে সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইকোসিস্টেমের অন্যান্য অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করতে পারে। কোভিড-১৯ মোকাবেলার মাধ্যমে পরিবার-পরিজন ও প্রতিবেশীদের রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে অপো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের নিয়ম-কানুন অনুসরণ করে বাসা থেকে কাজ করতে আমরা কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করেছি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কর্মস্থলে উপস্থিতি প্রয়োজনীয় হওয়ায় আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি যেন তারা নিজেদের মাঝে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে পারেন। রিটেইল স্টোরের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা সরকারের সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করছি। গ্রাহকদের বিভিন্ন অনুসন্ধানের তথ্য প্রদানে অপো অনলাইন সার্ভিস টিম নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের গ্রাহকদের জন্য আমরা বর্ধিত ওয়ারেন্টি প্রদান করেছি।

বাংলাদেশের বাজার নিয়ে অপোর আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা কী?

ড্যামন ইয়াং: বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ ভাগই তরুণ। সাধ্যের মধ্যে সাশ্রয়ী দামের স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের মধ্যে থাকা সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাই আমরা। ফাইভজির উন্নয়নেও বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে অপো। এর মধ্যে আছে ‘গ্র্যাভিটি প্লান ২.০’ নামে একটি সাপোর্ট প্রোগ্রাম যা ডেভেলপার ও পার্টনারদের সঙ্গে নিয়ে চালু করা হয়েছে। এছাড়া ফাইভ সিস্টেম-লেভেল ক্যাপাবিলিটি এক্সপোজার ইঞ্জিনস এবং আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ ‘আইওটি অ্যানাবলমেন্ট প্লান’ হাতে নিয়েছে অপো। আগামী তিন বছরে গবেষণা ও উন্নয়নে (আরঅ্যান্ডডি) ৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে অপো। ফাইভজি, এআই, এআর, বিগ ডাটাসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এবং সিস্টেমের উন্নয়নে এই বিনিয়োগ কাজে লাগানো হবে। আরঅ্যান্ডডি থেকে প্রাপ্ত কিছু উদ্ভাবন এরই মধ্যে দেখা গেছে অপোর ফাইন্ড সিরিজ, রেনো সিরিজ, এফ সিরিজ এবং এ সিরিজের স্মার্টফোনে। বাংলাদেশ সরকার আগামী বছরের মধ্যে দেশে ফাইভজি নিয়ে আসতে কাজ করছে এবং আমরা বিশ্বাস করি অপো এই অগ্রযাত্রায় সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারবে।

Leave a Reply