আখাউড়ায় কিস্তি না দিলে বাড়ি ছাড়বে না বলে জানান এনজিও কর্মীরা অভিযোগ ঋণগ্রহীতাদের

আখাউড়া, 7 June 2020, 489 বার পড়া হয়েছে,

মোহাম্মদ আবির : আখাউড়া মোগড়া ইউনিয়নের চরনারায়নপুর গ্রামের জাকির হোসেন নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী রোববার সকালে জানায়, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন নামে এনজিও কর্মীরা তার বাসায় এসেছে কিস্তির টাকা নিতে, কিস্তির টাকা্ না দিলে যাবেন না। স্বামী বিদেশে লকডাউনে আটকা পড়েছে তাই কিস্তির টাকা দিতে অক্ষম। তারপরও মানছে চাইছে না তারা। পরে পদক্ষেপ ম্যানেজার রহমানের নিকট বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, চরনারায়নপুর গ্রামের অন্য ছয়জন নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছে কিন্তু এই মহিলা কিস্তি দিতে চাইছে না।
এমন আরো কয়েকজন প্রবাসীর স্ত্রী জানায়, স্বামী বিদেশে লকডাউনে আটকা পড়েছেন, ঘরে খাবার নেই তারপরও গত দুইমাস ধরে কিস্তি আদায় করতে তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করছে এনজিও কর্মীরা।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী চলমান করোনা পরিস্তিতিতে ঋনগ্রহিতাদের নিকট থেকে কিস্তি আদায় করতে পারবে না এনজিও। কিন্তু লকডাউন শিথিল হওয়ার পর আখাউড়ায় বিভিন্ন এনজিও কর্মীরা চাপ প্রয়োগ করে কিস্তি পরিশোধে বাধ্য করছে ক্ষুদ্রঋন গ্রহিতাদের। এপ্রিল ও মাসে বিভিন্ন কৌশলে কিস্তি আদায় করলেও চলতি জুন মাসের শুরুতেই এনজিও কর্মীরা আখাউড়ায় কিস্তি আদায়ে মাঠে নেমেছেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

এনজিও কর্মীদের কিস্তি আদায় সম্পর্কে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার রেইনা জানায়, চাপ প্রয়োগ করে চলতি মাসে কিস্তি আদায় করা যাবে না। তাদের গৃহিত ঋণের কিস্তি পরিশোধে কোনো ঋণগ্রহিতাকে পরিশোধে বাধ্য করা যাবে না। তবে কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তি দিতে চাইলে সেক্ষেত্রে বাধা নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তিনি আরো জানান, পদক্ষেপ নামক এনজিও কর্মীরা্ ঋনগ্রহিতাদের চা প্রয়োগ করছে এমন অভিযোগ এসেছে আমার নিকট এসেছে। তাদেরকে সর্তক করে দেয়া হয়েছে। পুনরায় কাউকে চাপ প্রয়োগ করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকেই জানাচ্ছেন সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে করোনা পরিস্থিতিতেও এনজিও কর্মীরা কিস্তি আদায় করছে। চলতি মাসের প্রথম দিন লকডাউন শিথিল করার পর এনজিও কর্মীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাদের কিস্তি আদায়ের কেন্দ্রসহ বাড়ি বাড়ি ঘুরে কিস্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। কেউ কেউ ফোন করে কিস্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।

দ্বীন ইসলাম জানায়, হীরাপুর দক্ষিণপাড়ায় আশা’র কর্মীরা কিস্তি আদায় করতে এসেছিল পরে ছবি তুলতে গেলে চলে যায়। আতিক ফয়সাল নামে আরেকজন জানায়, ব্র্যাক কর্মীরা এই সপ্তাহ থেকে কিস্তি আদায় করবে আখাউড়া রেলজংশন এলাকায়। ফারুক আহমেদ জুয়েল জানায়, ধরখার ইউনিয়নের তন্তর এলাকায় পল্লী মঙ্গল কর্মসূচীসহ বিভিন্ন এনজিও কিস্তি আদায়ের জন্য নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করছে ঋণগ্রহিতাদের। আহমেদ সুফিয়ান বলেছেন, কিস্তি আদায়ের জন্য ফোন করছে নিয়মিত। গত ৩১মে থেকে দি মার্কেন্টাইল কো অপারেটিভ নামে এনজিও মোগড়া এলাকায় টাকা উত্তোলন শুরু করেছে বলে আল শাহারিয়ার হাসান জানিয়েছেন। শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সিঙ্গার সুরুম থেকে কিস্তির টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। মনিয়ন্দ মধ্যপাড়া আশা কিস্তি নিচ্ছে বলে মো: শামীম আহমেদ খান জানিয়েছেন। আশার কর্মীরা সোমবার কিস্তি নিতে আসবে ছতুরাশরীফ পূর্বপাড়ায় জানিয়েছেন ইসমাইল জয়। জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, দুর্গাপুর গ্রামে কিস্তি নিতে এসে শনিবার ঋনগ্রহিতাদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়েছে এনজিও কর্মীরা। হাফসা জাহান নামে একজন জানায়, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী কিস্তির জন্য চাপ সৃষ্টি বা বাধ্য করা যাবে না। তবে কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তি দিতে চাইলে বাধা নেই। ফোরকান উদ্দিন জানায়, এনজিও কর্মীরা বাড়িতে এসে চাপ প্রয়োগ করছে। কেউ দিতে না পারলে তাকে বলা হচ্ছে অন্যরা দিতে পারলে আপনি পারবেন না কেন। জয়শ্রী পাল বলেছে, ব্যাংক যেখানে লোনের কিস্তি নিচ্ছে সেখানে এনজিও নিলে এতো টানাটানি কেন। কাজী রকিবুল ইসলাম বলেছেন, আমি প্রতিবাদ করেছি, কাগজ দেখাতে বল্লে তারা ঋণ প্রদানের কাগজ দেখাতে পেরেছে কিন্তু ঋণ আদায়ের কিছু দেখাতে পারেনি। শাহীন খান জানায়, আখাউড়া মসজিদ পাড়ায় কিস্তি আদায়ের জন্য ঘরে ঘরে ফোন দিচ্ছে এনজিও কর্মীরা। লাল বাজার আশা সমিতি গত ৪ জুন কিস্তি আদায় করেছে বলে সুমি আজাদ জানায়। আলাউদ্দিন সামি জানায়, বৃহস্প্রতিবার থেকে মোগড়ায় ব্র্যাক ব্যাংক কিস্তি আদায় করবে বলে জানিয়েছেন আলাউদ্দিন সামি। আল আমিন সিকান্দার জানায়, দুর্গাপুর পূর্বপাড়ায় এসএস নামে এনজিও আজ রোববার সকাল থেকে কিস্তি আদায় করছে।
সরেজমিন খোজ নেয়ার সময় গ্রামীন, আশা, ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা জানায়, যারা স্বেচ্ছায় কিস্তি ও ডিপিএসের টাকা দিতে চাইছে তাদের নিকট থেকে টাকা আদায় হচ্ছে। চাপ প্রয়োগ করে কারো নিকট থেকে কিস্তি আদায় হচ্ছেনা বলেও তারা জানান।