সাংবাদিক বনাম সাংঘাতিক নিয়ে কিছু কথা

মতামত, 6 May 2020, 131 বার পড়া হয়েছে,

মোঃ লিটন পাঠান । লেখার প্রারম্ভেই অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি তাদের কাছে যারা জীবন,যৌবন,ইহকালীন সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে সর্বস্ব বিলিয়ে সাংবাদিকতার মত মহান দ্বায়িত্বকে পালন করেছেন এবং আমার মত নামকা ওয়াস্তে শিক্ষিত নামধারীদের এ সীমাহীন ক্ষেত্রে স্বদর্পে বিচরন করার সুযোগ রেখে গেছেন। না বোঝার ভান করে হয়তো এ লেখায় কেউ ব্যথিত হতে পারেন তার পরেও আমায় ক্ষমা করবেন। যে দ্বায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ আহত তা নিয়ে না লিখলেই নয় । আর না লিখলে বোধ করি আমরা শুদ্ধও হবো না বিবেকের যাতনায় ভোগতে হবে শেষ পর্যন্ত ।

আবারও সাংবাদিক ও পাঠক ভাইদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম আমার অসম্পুর্নতার জন্যে । তবে যারা নামধারী আর অপ-সাংবাদিকতার রেওয়াজ করে সাংঘাতিক কাজ করে হলুদ সাংবাদিকতা চর্চার জোয়ারে সাঁতরিয়ে চলেছে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কোন তরিকা আমার কাছে নেই, কারণ আজ তাদের নিয়েই লিখছি একজন সাংবাদিক দেশের ও সমাজের কল্যাণে নিবেদিত প্রাণ হবেন আর সাংবাদিকতায় এটি স্বতঃসিদ্ধ ও মৌলিক বিষয় তারা তা না করে প্রশাসনের দালালী ও নেতাদের দালালি, কি হচ্ছে দেশে আমার আপনার চারপাশে জাগতিক নানা স্বার্থে সংবাদপত্রকে জড়িয়ে ফেলা হচ্ছে, সৎ সাংবাদিকদের বিতর্কিত করা হচ্ছে, মহান দ্বায়িত্বের মহৎ আদর্শকে জলাঞ্জলি দেয়া হচ্ছে সাংবাদিকতা বাণিজ্যের ভিড়ে সংবাদপত্র এবং প্রকৃত সাংবাদিকরা আজ নিভৃতে, ফায়দা লুটের ধান্ধায় এক শ্রেণীর স্ব ঘোষিত সাংবাদিকরা দিন রাত পরিপাটি জামা লাগিয়ে জনআড্ডায় সরবে নিরবে সময় কাটাচ্ছে, প্রকৃত সাংবাদিকরা কোন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনীতিক নেতাদের দুর্নীতি অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ করলে ঐ সমস্ত সাংবাদিক নামের সাংঘাতিকরা দুর্নীতিবাজদের পক্ষ নিয়ে প্রকৃত সাংবাদিককে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানিও করছে।

যদি প্রশ্ন করেন ভাই আপনাকে তো কোন কাজ করতে দেখিনা শুধু শুধু বসে থাকেন করেনটা কি উত্তরে নিজের পরিচয় ঠিক এভাবে দিচ্ছে, বলছেন-আমি একজন পেশাধারী বড়মাপের সাংবাদিক আমাকে চিনে না এমন লোক তো দেখিনা এখন বলেন শুধু মাত্র সাংবাদিক পেশা দিয়ে ঘর সংসার চালানো আদৌ সম্ভব? যদি সম্ভব না হয় তাহলে অন্য কোন পেশার প্রয়োজন আছে কি এমন কিছু মুষ্টিমেয় আদর্শ বিচ্যুত সাংবাদিকতার আড়ালে সাংঘাতিকরা শিং গজানো বাছুরের মতো বুকে আইডি কার্ড ঝুলিয়ে উন্মাদের মতো আচরণ করে চলেছে। মফস্বল সাংবাদিকদের কোনো বেতন ভাতা দেওয়া হয় না শুধু বিজ্ঞাপনের কমিশন টা পায় তাহলে তাদের সংসার চলে কিভাবে আমি আমার পাঁচ বৎসর সাংবাদিকতার জীবনে ভালো একটা ফোন ভালো একটা প্যান্ট ভালো একটা শার্ট ভালো এক জোড়া জুতা কিনতে পারি না আমার পিতার ২০/২৫ বিঘা জমি আছে তাই আমি ভালো কিছু ব্যবহার করতে পারছি না। আমাদের সমাজে কিছু সাংবাদিক আছে যারা জমিদারি কায়দায় চলাফেরা করে তাদের আয়ের উৎস কি কোথা থেকে আয় করে থাকেন। আবার অনেকে ফ্রি চা পান করতেও দোকানদারকে বুক থেকে খুলে আইডি দেখিয়ে বলছে, এই দেখ বেটা আমি কে আবার আবার কেউ কেউ দোকানদারদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিজের পত্রিকা কিনতে বাধ্য করে থাকেন। পাঠক ভাবছেন তাহলে কি ভাল চরিত্রের সাংবাদিক নেই? হ্যাঁ পাঠক ভাই ভাল মানের সাংবাদিক ও আমাদের চারিপাশে বিদ্যমান আছে তাদের কথা অন্যদিন বলবো ইনশাআল্লাহ।

সাংবাদিকতা এ জগতে বড়মর্যাদা সম্পন্ন কাজ, বানরের গলায় মুক্তার মালা ঝুলছে ফলে মুক্তার মালা তার মর্যাদা হারাচ্ছে। শূদ্ধতার মাঝে ঢুকে পরেছে নাম সর্বস্ব অপ-সাংবাদিকতা। দুর্নীতি আর ভন্ডামি ঢুকে গেছে এ পেশায় পেশার নামে অসুস্থ ব্যবসা অশিক্ষিত কু,শিক্ষিতরা অর্থের বিনিময়ে জাতীয়, স্থানীয় পত্রিকার পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে সাংবাদিকতার নামে সাংঘাতিক ভাবে মানুষকে ইজ্জত হরণের নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে, সহজ সরল আবেগ প্রবণ সাধারণদের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণায় মেতে উঠেছে । যা সাংবাদিকতা আর সংবাদপত্রের জন্য সাংঘাতিক হুমকি স্বরূপ।
সাংবাদিক নামে সাংঘাতিকদের অহমিকতা,দাম্বিকতা,পরচর্চা, প্রতারনা পেশাধারীর নামে অন্যের প্রতি কাল্পনিক বদনাম রটানো, নিজ স্বার্থ হাসিলে এ রকম নিয়ম বহির্ভুত ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের দৌরাত্ব দিনে দিনে বেড়েই চলেছে।

এধরনের সাংবাদিকদের সাংঘাতিক দাপটে বিভিন্ন এলাকার নিরীহ জনসাধারণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও প্রতিবাদের হিম্মৎ করছেনা। কারণ, এরা এলাকায় মানে আশ পাশের কলোনিতে, চায়ের দোকানে, নিরীহ স্কুল মাষ্টারের কাছে সাংবাদিক নামে পরিচিত, ওই লোক গুলো (যারা সাধারণ) সাংবাদিক নামের পবিত্র শব্দটিকে সম্মান করে ভালবাসে মধুর লেবেলে বিষের বোতল আবিস্কার করতে খুব বেগও পেতে হয় বটে, তবুও বলতে হয় ধর্মীয় একটি বাণী আছে যা স্মরণীয়,অর্থাৎ সত্য যখন আসে তখন মিথ্যা চলে যায়, মিথ্যা চলে (পালানোর) যাবে নিশ্চয়” ভালো ও মন্দের সমন্বয়ে একটি সমাজ।

মানুষ সবসময় অরক্ষিত আবেগ প্রবন কেননা পারিবারিক সামাজিক,রাজনৈতিক ধর্মীয় কোন না কোন ভাবে নিজেদের মাঝে ভুল বুঝাবুঝির ক্ষেত্র তৈরি হয়ে যায় । আর সেথায় সুঁই এর জায়গায় কুঠার বসিয়ে তিল কে তাল করে নিজের অনৈতিক মতলব হাসিল করার স্বার্থে ওই সকল সাংঘাতিকরা মুখরোচক, কাল্পনিক রসালো গল্প তৈরি করে জন সম্মুখে হাজির করে যা ভুক্ত ভোগীদের জন্য বিরক্তিকর, অস্বস্তিকর, সম্মানহানির বিষয়, তাই এ ধরনের উটকো ঝামেলা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে সাংবাদিকতার নামে সাংঘাতিকদের বিরুদ্ধে কোন কিছু বলে না ওরা ।

যারা বলবে তাদের বিরুদ্ধে এসব সাংঘাতিকরা জাতীয় বা স্থানীয় পত্রিকায় নামে বেনামের সূত্রে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেয় । একটি ভুক্ত ভোগী পরিবারের কর্তার সূত্রে কি জানা যায় আসুন তাহলে দেখি, জানা যায়, ওই গৃহকর্তা বলেন, জমি সংক্রান্ত ঝামেলা থেকে এক সাংঘাতিক সাংবাদিকতার নামে আমার মেয়ের নামে মিথ্যা খবর ছাপিয়ে সমাজে আমাকে আমার পরিবার কে লাঞ্ছিত করেছে কোন আত্মীয় স্বজনও মাদক ব্যবসা কি। (প্রথম-পর্ব)(১)
(দ্বিতীয়-পর্ব)(২) আরেকটি সূত্র আবেগ প্রবন হয়ে বলেন, জানা মতে আমার কোন আত্মীয় স্বজনও মাদক ব্যবসা কি তা জানে না, এমন কি মাদক কি জিনিস তাও বলতে পারিনা, অথচ আমাদের নামে মিছা সংবাদ দিয়ে আমাদের কে কলঙ্কিত করেছে অল্প পয়সায় । অল্প পয়সায় প্রশ্ন করলে ভুক্ত ভোগী লোকটি বলেন ভাই মাত্র ৩০০ টাকা আর এক পেক (প্যাকেট) সিগারেট আমার লাক টাকার ইজ্জত নষ্ট করল ওই সাংবাদিক নামের সাংঘাতিক ।

তাই অনেকে মান-সম্মানের ভয়ে ওইসব অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজী নন এবং ওই সকল সাংবাদিকতার নামে ছদ্মবেশী সাংঘাতিকদের কিছু মহলের সাথে সম্পর্ক থাকার ফলে কিছু বলে উটকু ঝমেলা করতে চান না বলে জানান, আরেকটি সূত্র জানায়, কোটি টাকা ব্যয়ে প্রতিষ্ঠান করেছি,আমার প্রতিষ্ঠানে জানা মতে কোন অবৈধ কাজকর্ম করার সুযোগ নেই । তথাপিও শুধু মাত্র এড না দেওয়ার পরিণামে আমার এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কাল্পনিক সংবাদ ছাপিয়ে এ প্রতিষ্ঠানটির সুনামে বিঘ্নতা ঘটানোর পাঁয়তারা করছে যদিও ক্ষমা চেয়েছে ওই কাজের জন্য ।

তার পরেও অনুমান নির্ভর ও ধরনের কাজ করাটা কি সঠিক ? মূলত সাংবাদিকতা একটি মহাপবিত্র সুস্থ সচেতন বিবেকের প্রেরনা ও দ্বায়িত্ব। বলা হয়ে থাকে “জ্ঞানীর কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র।”আর এ কলমের কালির লেখকের প্রতি দুবর্লতা রয়েছে গনমানুষের সাংবাদিকতায় যেমন রয়েছে ঝুঁকি, তেমন রয়েছে সম্মান ও আত্ম রোমাঞ্চ। সাংবাদিকতার নামে সাংঘাতিকতার ক্যান্সার টুকু বাদ দিলে যে টুকু থাকে তার সব টুকুই আত্মতৃপ্তি পাওয়ার জন্য একটি স্বাধীন লালসাহীন বিবেকের নাম সাংবাদিকতা । আর এই কারনেই সংবাদপত্রকে সমাজের দর্পণ আর সাংবাদিকদের জাতির বিবেক বলে আখ্যায়িত করা হয় ।

তাছাড়া সংবাদ পত্র একটি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবেও স্বীকৃত। একজন সৎ নির্ভীক ও নিরপেক্ষ সাংবাদিক সমাজের কাছে যেমন সমাদৃত তেমন দুর্নীতিবাজ ছিনতাইকারি , চোরাচালানী, মাদক ব্যবসায়ী ও সমাজ বিরোধী মতলববাজ অবৈধ ফতুয়া বাজ,ঘোষখোর ধর্ম ব্যবসায়ী, নারীলোভী,ক্ষমতালোভী, সন্ত্রাসীদের কাছে মূর্তিমান আতংক, কলেবর বৃদ্ধি করলে এমন অনেককেই উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যায় জানা, আবশ্যক যে সাংবাদিক হওয়ার জন্য শিক্ষার কোন উল্লেখ্যযোগ্য মাপকাঠি না থাকলেও সুস্থ সচেতন বিবেকের ধারক ও বাহক শিক্ষিত পুরুষ মহিলা যারা একই সাথে দেশ ও জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসার যোগ্যতা বহনে সক্ষম, নিজ ভাষার ব্যবহার সম্পর্কে সতর্ক জ্ঞান সম্পন্ন তারাই এ ক্ষেত্রে আবশ্যাক।

এ ছাড়া যিনি , সাংবাদিকতার মত ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত হতে চান তার থাকতে হবে মানসিক ও শারীরিক যোগ্যতা। একজন সাংবাদিককে হতে হবে মেধাবী, স্মার্ট ও চটপটে জানার আকাংখা। থাকতে হবে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করার মত ধৈর্য, সৎ-সাহস ও পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি সম্পন্ন উদার মানসিকতা। ভদ্রোচিত ব্যবহার সাংবাদিকের একটি বিশেষ গুণ। সাংবাদিককে নিরপেক্ষ বিবেক সম্পন্ন হওয়া বাধ্যতামুলক, দুঃখের বিষয় সরকারি বেসরকারি দফতরের আসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব টাউট ৪২০দের কে সমীহ করছে, আবার তাদের অপকর্মে সহযোগিতা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে, শুধু এখানেই শেষ নয় টাউট হিসাবে চিহ্নিত এসব সাংঘাতিক সংবাদ কর্মীরা।

অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন সম্যসাগ্রস্থ মানুষদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এ সংবাদকর্মী অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি বিপদগ্রস্থ মানুষদের আরো বিপদে ফেলছে, তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে সময় এসেছে এদেরকে চিহ্নিত করার এরা আসলে সমাজ সুব্যবস্থার শত্রু, একজন সৎ সাংবাদিকই পারে সমাজ থেকে মাদক দুর্নীতি ও বেওয়াফা না মুক্ত সুন্দর সমাজ উপহার দিতে।

আসুন, আমরা এদের একে একে চিহ্নিত করে এদের মুখোশ উন্মোচন করি আর স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে এদের প্রতিহত করি ।

  • 20
    Shares