কখনো দানবীর আবার কখনোও দানব প্রকৃতির অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আবুল কাশেম

আখাউড়া, 1 May 2020, 364 বার পড়া হয়েছে,

মোহাম্মদ আবির আখাউড়া থেক‌ে :  আখাউড়া মোগড়া বাজার এলাকায় শত শত মানুষ লকডাউন ভেঙ্গে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাত করে অনেক মানুষ কে রাস্তায় বসিয়েছেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আবুল কাশেম।ভোক্তভোগীরা জানান আবুল কাশেম আখাউড়া অসংখ্য মানুষকে চাকরি দেওয়ার ছলে ঢাকা যাওয়ার পরামর্শ দান করেন বিশাল অঙ্কের মাসিক বেতনের চাকরি দেওয়ার ছলে তাদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় তারপর চাকরির খবর জানতে চাইলে (লাইফ ওয়ে বাংলাদেশ প্রা: লি:) নিয়ে যান ভুক্তভোগীদের সেখানে কয়েদিন প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আবুল কাশেম ও তার সন্তান প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন প্রশিক্ষণে তাদেরকে ধারণা প্রদান করা হয় কিভাবে মানুষকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা যায় যে যত বেশি প্রতিষ্ঠানে লোক আনতে পারবে তার স্যালারি তত বেশি হবে। অনেক সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লোককেও প্রলোভন দেখিয়েছে হাতিয়ে নিয়েছে অনেক টাকা বিদেশ নেওয়ার কথা বলে অনেকের হাত থেকে টাকা নিয়েছেন তিনি।

এমনিভাবে অনেককে ঢাকা নিয়ে কয়েকদিন রেখে বাড়িতে পাঠান এর মধ্যে বিশাল অঙ্কের টাকা তিনি হাতিয়ে নেন। এর বাইরে ও তার কয়েকটি পরিচয় রয়েছে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ছবি সংবলিত টাইলস দেয়ালে টাঙ্গিয়ে প্রথমে দাবি করেন তার তিন তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং স্থানীয় সংসদ সদস্য উদ্বোধন করেন কিছুদিন পর সেখান থেকে ছবি সংবলিত টাইমসের নিচে সংসদ সদস্যের নাম এবং সৌজন্য তার নিজ নাম উল্লেখ করেন কিন্তু জানা যায় তার ঘরে মন্ত্রী মহোদয়ের কোন ছবি নেই এছাড়াও তিনি দাবি করেন উপজেলা চেয়ারম্যান তার বেয়াই প্রশাসন তার হাতের মুঠোয় রয়েছে বলে অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

এসময় বিক্ষুব্ধ লোকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কাশেমকে গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করে মোগড়া বাজার প্রদক্ষিণ করে।

সকাল ১১ঘটিকায় আখাউড়া-কসবা সড়কের মোগড়া এলাকায় মানববন্ধনের পর বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক
দরুইন গ্রামের বাসিন্দা কাজল খান, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট ধনারচর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রউফ, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট
অফিসার গঙ্গানগর গ্রামের বাসিন্দা শামসু মিয়া, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত করপোরাল এসএম ইসহাক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণঘাট এলাকার বাসিন্দা বসুমিয়া, মোগড়া ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি মুসা মিয়া সরদার।

প্রতারণার শিকার জাঙ্গাল গ্রামের জুলহাস মিয়া, গোকর্ণঘাটের বসু মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন,
কাশেমের প্রতারণার লোভে পড়ে হালের গরু বিক্রয় করে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর
জন্য ২০১৪ সালে ৩লাখ টাকা দিয়েছি। কিন্তু ছেলেকে বিদেশ পাঠাইনি। টাকাও
ফেরৎ দেয়নি। টাকা চাইলে সে মামলার ভয় দেখায়।

শামসু মিয়া চাকরি শেষে দুই দফায় ১৩লাখ টাকা কাশেমের হাতে তুলে দিয়েছিলেন
ব্যবসার জন্য। পরবর্তীতে সব টাকা আত্মসাত করে কাশেম। ওই টাকা ফেরৎ চাইলে
তাকে মিথ্যা মামলায় জেলে পুড়ে দেয়া হয়। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরে এসে
সব হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে পড়ে শামস। হতাশায় ভোগে প্যারালাইসিস রোগী হয়ে
ঘরে অনাহারে অর্ধহারে জীবন কাটছে এখন তার।
এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, সে একজন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক। কিন্তু
এলাকায় সেনাবাহিনীর অফিসার হিসাবে সবার কাছে তার পরিচয় তুলে ধরে পোষ্টার
করে সেনা কর্মকর্তা লিখে প্রচার করেন। সে একজন সৈনিক হয়ে উপজেলার মোগড়া
এলাকায় কয়েক কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি করে। ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, শতশত
মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে নেয়া সেই অর্থে কাশেম প্রাসাধসম বাড়ি তৈরি
করে। আর ভোক্তভোগী মানুষরা ধোকে ধোকে মরে। তাকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান ভুক্তভোগীরা।
অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সেনাবাহিনীর
অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক আবুল কাশেম। তিনি বলেন, যদি কেউ তার কাছে টাকা পাওনার
দলিল দেখাতে পারে তিনি তার টাকা পরিশোধ করবেন।