নাসিরনগরে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পরও গ্রামাঞ্চলে মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব

নাসিরনগর, 24 April 2020, 255 বার পড়া হয়েছে,

মোঃ আব্দুল হান্নান,নাসিরনগর,ব্রাক্ষণবাড়িয়া,সরাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার সরকারি নির্দেশনা বলবৎ থাকলেও ব্রাহ্মণবাডড়িযা জেলার নাসিরনগরের বিভিন্ন পাডা-মহল্লা চলছে জমজমাট আড্ডা। স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারগুলোতে হচ্ছে মানুষের সমাগম। বিভিন্ন ব্যাংক ঘুড়ে দেখা গেছে মানুষের জটলা। জেল-জরিমানা করেও নির্দেশনা মানতে বাধ্য করা যাচ্ছে না। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব না মানায় এ উপজেলার মানুষের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ব্যাপক ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

সরকারী ভাবে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। জেলার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় বড় বাজার ও চক বাজার নামে দুটি বাজার রয়েছে।এ দুই বাজারের প্রায় এক দেড়শো ব্যাবসায়ী প্রতিদিন কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থেকে গিয়ে বিভিন্ন মালামাল বহন করে উক্ত বাজার গুলোতে নিয়ে আসছে।কিন্তু দুঃখের বিষয় ভৈরবে প্রচুর করোনা আক্রান্ত রোগী রয়েছে।এ সমস্ত ব্যবসায়ীদের কারনে চাতলপাড় সহ নাসিরনগরের লোকজন আতংকে রয়েছে। এলাকাবাসী কিছু সময়ের জন্য হলেও ভৈরবের সাথে নাসিরনগর বা চাতলপাড়ের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবী প্রশাসনকে সু্বেিবচনা করে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

নাসিরনগর উপজেলায় এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়া প্রবাসী ১ জন মারা গেছে এবং তার পরিবারের দুই ভাই, স্ত্রী ও কন্যা সহ ৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। যদিও উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন প্রতিনিয়ত গ্রাম পর্যায়ের হাট-বাজারগুলোতে গিয়ে মানুষকে সচেতন করতে নিয়মিত প্রচারনাসহ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি জোর তৎপরতা ও প্রচারণা চালানো হলেও বাস্তবে প্রশাসনের এ নির্দেশ আমলে নিচ্ছে না এলাকার মানুষ। এতে এলাকার স্বাস্থ্যঝুঁকি বাডছে।নাসিরনগর উপজেলা সদরের সড়কে কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বিভিন্ন গ্রামের অলিগলিতে,মোড়ে ও চায়ের দোকানে জনসমাগম ঠেকানো যাচ্ছে না।

পুলিশ কিংবা প্রশাসনের গাডী দেখলেই দোকানের সাটার নামিয়ে ফেলে দোকানিরা। পুলিশের গাডী চলে গেলে পুনরায় আবারও খুলে বসে দোকান । করোনা ভাইরাস আতংকে সংক্রমণরোধে সরকার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষনা করেছেন।এতে মানুষজন শহর ছেড়ে গ্রামে চলে আসে। তারা অকারণেই গ্রামের অলিগলিতে হাট-বাজারগুলোতে অনেকে অহেতুক আড্ডা দিতে দেখা গেছে।স্বাভাবিক অবস্থার মতই দোকানে বাজারে মানুষের সমাগম পরিলক্ষিত হচ্ছে।এছাড়াও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অলিগলিতে বিভিন্ন বয়সের তরুন যুবকদের ক্রিকেটসহ দল বেঁেধ খেলাধূলা ও আড্ডা মারতে দেখা যায়। তাদের মুখে নেই কোন মাস্ক,নেই গ্লাভস । হ্যান্ড স্যানেটাইজার কী হয়তো বা অনেকেই জানেন না। তাছাডা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজার খোলা মাঠে স্থানান্তর করা হলেও সামাজিক দুরত্ব না মেনেই গ্রাম পর্যায়ের হাট-বাজারগুলোতেও মানুষজন সমাবেত হচ্ছে। গাঁঘেষেই চলছে কেনা-বেচা। মানছেন না সামাজিক দুরত্ব এবং সরকারি নিয়ম-কানুন। চাতলপাড়ে পুলিশকে ম্যানেজ করেই বাজারের দোকান পাঠ খোলা রাখছে কেউ কেউ এমন অভিযোগ উঠেছে। চাতলপাড়ের ব্যবসায়ীদের দিকে সুদৃষ্টি দিতে তাছাড়াও ফান্দাউকের কাঁচা বাজার খেলার মাঠে স্থান্তান্তরিত করতে এবং ব্যাংক খোলার দিনে পুলিশী নজরদারী বাড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহল।

নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ সাজেদুর রহমান বলেন, আমরা জনগনকে করোনার ভয়াবহতা সর্ম্পকে বুঝিয়ে সচেতন করার চেষ্ঠা করছি।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী বলেন, সামজিক দূরত্ব নিশ্চিতে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি আইন প্রয়োাগের মাধ্যমে জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানা পুলিশ নিয়ে প্রতিদিন হাট বাজার সহ পাড়া মহল্লা মনিটরিং করছি।