সব এনজিও’র ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধের নির্দেশ

রংপুর, 24 March 2020, 267 বার পড়া হয়েছে,

নাটোর: জেলায় সকল এনজিও’র ঋণের কিস্তি আদায় ও হাটবাজার বন্ধসহ ৮টি নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। এসব নির্দেশনা পালনে জনসাধারণকে বাধ্য করার জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধ ও করণীয় বিষয়ে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে এসব নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ। পাশাপাশি চা-স্টল, রেস্তোরায় সমাগম, টেলিভিশন, ক্যারাম পরিচালনাও বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

এ নির্দেশনা জারির পর থেকে অন্তত পক্ষে অর্ধশত জেলাবাসী তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুকের টাইমলাইনে জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ এর ছবি শেয়ার করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছেন। ধীরে ধীরে যখন সম্ভাব্য লকডাউনের পথে দেশ, তখন বিশ লাখ মানুষের নাটোরে তিনি একটি সাহসী ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনিই দেশের প্রথম ডিসি হয়তো, যিনি এনজিওর ঋণের কিস্তি সাময়িক মওকুফের নির্দেশ দিলেন/অনুরোধ করলেন। তার এই ঘোষণায় ঋণগ্রস্ত মানুষ যারপরনাই খুশি। মানুষকে সংকটকালে কিছুটা নিষ্কৃতি দেয়াও পুণ্যের কাজ এবং তিনিই সেটি করলেন। ইতোপূর্বে আর কোন জেলা প্রশাসক নাটোরবাসী বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির চাওয়া এতটা হৃদয় দিয়ে উপলদ্ধি করেছেন কি না, জানা নেই। জনস্বার্থে জারিকরা নির্দেশনাগুলো হলো- বিদেশ ফেরতদের সঙ্গরোধে (হোম কোয়ারেন্টিন) যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করা, চা- স্টল, রেস্তোরাঁ সমূহে বসে খাবার গ্রহণ বন্ধ এবং পার্সেল আকারে ক্রয়-বিক্রয়, কোনো হোটেল, চায়ের দোকান বা অন্য কোনো দোকানে টিভি/ক্যারাম না রাখা, সাপ্তাহিক বড় হাটসমূহ আগামী এক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখা (তবে সেখানে প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পণ্য ও দ্রব্যাদি ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে), বিনা প্রয়োজনে যত্রতত্র ঘরের বাইরে ঘোরাফেরা না করা এবং জেলার এনজিও কর্তৃপক্ষসমূহকে তাদের ঋণের কিস্তির টাকা আদায় সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখা।  সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনাগুলো হলো- স্ব-স্ব বিভাগ নিজেদের প্রয়োজনে পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্টের (পিপিই) ব্যবস্থা করা এবং জেলা ও উপজেলা সকল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থান করা।

জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, জনস্বার্থে প্রেরিত এসব সিদ্ধান্ত মানুষ মেনে চলছে কি না- তা কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।