মফস্বল সাংবাদিকতার সেকাল একাল

মতামত, 9 March 2020, 147 বার পড়া হয়েছে,

মোঃঅাব্দুল হান্নান,নাসিরনগর,ব্রাক্ষণবাড়িয়া: সংবাদপত্রকে ইংরেজিতে News paper, বাংলায় বলা হয় সংবাদপত্র।অন্যদিক বিবেচনা করলে সংবাদ পত্রকে বলা হয় সমাজের দর্পন বা অায়না।অার যারা সংবাদ পত্রে কাজ করে তাদের বলা হয় সংবাদকর্মী বা সাংবাদিক।

অাবার সাংবাদিককে জাতির বিবেক ও বলা হয়ে থাকে। বলছি অামাদের সময় সাময়িক সাংবাদ কর্মীদের সময়ের কথা।অাজ থেকে অনুমান ২০/২২ বছর অাগের কথা।এমন এক সময় ছিল,আমার যখন সাংবাদিকতা শুরু করি। তখন যে কয়েক জন সংবাদকর্মী ছিল।অামাদের মাঝে প্রতিয়োগিতাও ছিল।তখন পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে ১ টাকা দিয়ে বুক পোষ্টে নিউজ পাঠানো হত।৪/৫দিন পর নিউজ ছাপা হত পত্রিকায়। স্হানীয় পত্রিকা গুলোতে টি, এন,টি থেকে টেলিফোনে রাত ৮ টার ভেতরে সংবাদ পাঠানো হত।

এক পএিকার প্রতিনিধির সাথে আরেক প্রতিনিধির দেখা হত প্রায় সময়ই সন্ধ্যায় টেলিফোন অফিসে। সবাই নিজের মত করে সংবাদ লিখতেন।তখন তেমন একটা ধার কর্যের সময় ছিল না। সৃজনশীল সংবাদ লেখা ও ছাপা হত। তখন অাদেশ দা দৈনিক ভোরের কাগজে, অাক্তার হোসেন ভূইয়া,দৈনিক অাজকের কাগজে,অাজিজুর রহমান চৌধুরী মানব জমিনে,অামি ছিলাম দৈনিক জনতায়,সুজিত ঠাকুর বাংলার বানী, সবুজ ভাই দৈনিক সংবাদে কাজ করতাম। অার আজ কাল আধুনিক যুগে ডিজিটাল সাংবাদিকতা।

বর্তমান ডিজিটাল সাংবাদিকদের দেখলাম তাদের তেমন শেখার কোন আগ্রহ নেই। অনলাইন নিউজ পোর্টালের সুবাদে তারা নিউজ পেয়ে যায়। নিউজটি সঠিক না বেটিক তাও যাচাই বাচাই করার সময় থাকেনা তাদের। শিরোনামটা ও না পাল্টিয়ে পোষ্ট করে দেয় না। জানেনা অনুসন্ধানী রিপোর্ট কি ও কাকে বলে? জানতে ও চায়না। খবরের পেছনে যে আরেকটা খবর থাকে তা শেখার বা জানার আগ্রহও নেই তাদের ।

আমাদের সময় কতৃর্পক্ষ নিয়োগ দেয়ার পুর্বে অফিসে বসিয়ে কৌশলে নিউজ লিখিয়ে যাচাই করে প্রতিনিধি নিয়োগ দিতেন।নীতি নৈতিকতা সম্পর্কে বিভিন্ন মাধ্যম ও সরকারী সংস্হার মাধ্যমে কোন কোন সময় যাচাই বাচাই করে নিয়োগ পত্র দিতেন।অার এখন ডিজিটাল যুগে শত শত নিউজ পোটালের ছড়াছড়ি। যদিও সরকার ইতিমধ্যে কিছু নিউজ পোটাল ছাড়া অন্যসব পোর্টালের রেজিষ্টশন,বাতিলের বিষয়ে ও কিছু কিছু নিউজ পোটার্লকে অনুমোদন বিহীন বলছে। তাই তাদের প্রতিনিধি নিয়োগের কোন নীতিমালার ও দরকার নেই।তবে সরকার বলছেন তাদের লাগাম টেনে ধরবেন। কিন্তুু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি।

সরকারি নীতিমালার আওতায় না আসায় একটি কম্পিউটার, বা একটা ল্যাপটপ বা একটা এনড্রয়েট মোবাইল সেট নিয়ে নিজেই একটা পোটার্লের সম্পাদক ও মালিক বনে গেছে অনেকেই।অাবার কোন কোন নিউজপোর্টাল লোভনীয় অফার দিয়ে সাংবাদিক নিয়োগ দেয়ার নামে বেকার যুবকদের রাতারাতি সাংবাদিক বানিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে।আর তারা ও হয়ে যাচ্ছে কপি সাংবাদিক।অার এ সমস্ত সাংবাদিকরা একটি এনড্রয়েট মোবাইল সেট হাতে নিয়ে সারাদিন ডুবে থাকে ফেইজবুক ও নিউজ পোটালের দিকে। আর তারা অন্যের নিউজ দেখলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে কপি পেষ্ট করে নিউজ ছাপিয়ে নিজে সাংবাদিক হয়ে যায়।

অনেক ছেলেরা আছেন,যারা উচ্চশিক্ষিত,মেধাবীরা সাংবাদিকতায় আসুক আধুনিক এ ছেলেরা আমাদের শুন্যস্হান পূরণ করুক। এ পেশায় যারা পরিশ্রমি, ত্যাগী ও বৃত্তশালী তাদেরই অাসা উচিত বলে মনে করি। দরিদ্র পরিবারের ছেলেদের আমাদের মত মফস্বল সাংবাদিকতায় আসা মানে নিজের ভবিষ্যত কে অন্ধকারে ডেকে আনা। কারণ মফস্বল সাংবাদিকতা মানে নিজের খেয়ে বনের মহিষ তাড়ানোর মত। এ পেশায় ঠিকে থাকা আর যুদ্ব করা সমান।কারন সৈনিকরা দেশের জন্য যুদ্ধ করে অস্ত্র দিয়ে অার সাংবাদিকরা কলম দিয়ে। নীতি নৈতিকতা মেনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করলেও অনেক বদনামের কালিমা গায়ে লাগে।এ পেশায় নিজেদের মধ্যেও স্নায়ু যুদ্ধচলে। মহান এ পেশায় নিয়োজিত হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করি।তবে এ পেশায় নিয়োজিত থেকে সমাজ ও দেশকে কিছু দিতে পারলাম কি না জানি না?এ প্রশ্ন জাতির কাছে?

  • 15
    Shares