কসবায় নিখোঁজের ৪দিন পর যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

কসবা, 4 January 2020, 242 বার পড়া হয়েছে,

রুবেল আহমেদ, কসবা(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ॥
ব্রা‏হ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পৌর এলাকার কাঞ্চনমূড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজের ৪দিন পর (২ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার পরিত্যক্ত একটি সেফটি ট্যাংক থেকে সাইদুর রহমান (২০) নামে এক যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবী তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করে সেফটি ট্যাংকে ফেলে গেছে ঘাতকরা। নিহত সাইদুর কাঞ্চনমুড়ি গ্রামের মো.হুমায়ুন কবিরের ছেলে। সে পেশায় একজন সিএনজি চালক। এ ঘটনায় তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতীপ্রাপ্ত কসবা সার্কেলের পুলিশ সুপার আবদুল করিম ও কসবা থানা ওসি তদন্ত আসাদুল ইসলাম।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, গত রোববার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় মায়ের কাছে খাবার চেয়ে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সাইদুর। পরে রাত সাড়ে ৮টা পর থেকে তার মোবাইলে যোগাযোগ করতে পারেনি পরিবারের লোকজন। সে থেকে নিখোঁজ হয় সাইদুর । তাকে খুঁজে না পেয়ে তার মা হনুফা বেগম কসবা থানায় সাধারন ডাইরী করেন এবং খবর দেন সিলেটে কর্মরত সাইদুরের বাবাকে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকালে কাঞ্চনমুড়ি এলাকার পরিত্যাক্ত একটি টয়লেটের সেফটি ট্যাংকে তার লাশ দেখতে পায় স্থানীয় স্বজনরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় মানুষের ঢল নামে। সাইদুরের লাশ উদ্ধারের পর তার স্বজনদের আহাজরিতে ভারী হয়ে এলাকার পরিবেশ।
নিহতের বাবা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, গত রোববার রাতে নিখোজ হওয়ার পর তার স্ত্রী হনুফা বেগম ও বাড়ির লোকজন তাকে জানায় । ৪ দিন বহু খোঁজাখোঁজি করেও কোথাও খুজে পাওয়া যায়নি আমার ছেলেকে। নিখোজ হওয়ার পর থেকে তার মা পাগলের মতো হয়ে যায়। খুজে না পেয়ে গত ৩১ ডিসেম্বর থানায় সাধারন ডাইরী করে আমার স্ত্রী। বাড়ির লোকজন সারা এলাকায় তন্নতন্ন করে খুজলেও কোথাও পাওয়া যায়নি আমার ছেলেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের চাচাত ভাই আরিফ মিয়া, লিটন মিয়া ও রুবেল মিয়া খুঁজতে খুঁজতে কসবা পৌর শহরের ইমামপাড়া সংলগ্ন একটি পরিত্যাক্ত বাড়ির টয়লেটের স্যাপটি ট্যাংকিতে সাইদুর রহমানের জবাই করা লাশ দেখতে পায় । খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে কসবা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত সাইদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে গিয়ে দেখতে পাই আমার ছেলের গলা কাটা লাশ। কান্নাজড়িত গলায় নিহতের বাবা বলেন; আমি সরকারের কাছে আমার ছেলের হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি চাই যেন আর কোন বাবা মা বুক এভাবে খালি না হয়। ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সাইদুর হত্যাকান্ডের বিষযটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষিদের খুজে বের করে অচিরেই আইনের আওতায় আনা হবে।