বিজয়নগরে মাদক ব্যবসায়ী মোবারক এখন কোটিপতি

বিজয়নগর, 29 December 2019, 345 বার পড়া হয়েছে,

রাইট টাইমস ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে মোবারক নামে এক ইউনিয়ন যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পত্তি অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। গত ২ বছরের মধ্যে নিজ গ্রামে লিফ্ট বৈশিষ্ট ৬ তলা বাড়ি ও অর্ধ কোটি টাকার গাড়িসহ তার চলাফেরার স্টাইল এলাকার মানুষের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। ক্যাসিনো,জুয়া ও ইয়াবা ব্যবসা করে এই অবৈধ সম্পদ অর্জন করা হয়েছে ও এর দ্বারা এলাকায় লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে র্মমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক বরাবর গত ২৬ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এহসানুল চৌধুরী নয়ন নামে এক ব্যাক্তি।
লিখিত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, মোবারক বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তী ইউনিয়নের বারঘড়িয়া গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে। তিনি বুধন্তী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সাতবর্গ বাজারের অন্যান্য চালকল ব্যবসায়ীদের মতো তিনিও একজন সাধারন চালকল ব্যবসায়ী। তিনি বিগত ২০১৮ সালে সাতবর্গ গ্রামে জানাশোনা আয়ের বাইরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ০৭ শতাংশ ভূমির উপর একটি ০৬ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মান করেন এবং তিনি একটি বিলাশবহুল পাজেরো গাড়ি ব্যবহার করেন। যা এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। এবং বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে জানা গেছে তিনি ইয়াবা ব্যবসার সাথে সরাসরি জরিত। তিনি তার বিলাশবহুল গাড়ির মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকা আখাউড়া থেকে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক দ্রব্য ঢাকায় সরবরাহ করে থাকেন। আরো জানা যায়, তিনি ঢাকার একাধিক ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার সাথেও জরিত। তাছাড়া তিনি তার নিজ এলাকা সাতবর্গ বাজারে প্রতিরাতে জুয়া খেলার আয়োজন করে থাকেন। উনার ভাষ্যমতে, তিনি বিগত বছরগুলোতে আইপিএল ও বিপিএল খেলা চলাকালীন সময়ে জুয়া খেলার মাধ্যমে অর্থ উর্পাজন করেছেন। এলাকার জনগণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে আরো জানা যায়, একাধিক ব্যাংকে মোবারক মিয়া, তার পিতা ফিরোজ মিয়া ও তার বোন জামাই কুদ্দুস মিয়ার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৩০/৪০ কোটি টাকার এফডিআর আছে। এছাড়াও তিনি তার ব্যবহৃত গাড়িতে অগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে চলাচল করেন। এর দ্বারা এলাকায় লাঠিয়াল বাহিনী তৈরি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই এখনই তার লাগাম টেনে না ধরলে ভবিষ্যতে তা বয়াবহ আকার ধারণ করবে ও এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট ও খুন খারাবী বৃদ্ধি পাবে।
অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য এই অভিযোগটির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে- দুদকের প্রধান কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এর প্রধান কার্যালয়, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এর প্রধান কার্যালয়, র্যাব এর প্রধান কার্যালয়, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সভাপতি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিস, দুদকের কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিস ও বিভিন্ন গণমাধমে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত মোবারক যেই চাতালকল ব্যবসা পরিচালনা করেন সেই ব্যবসার অবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমানে সাতবর্গ বাজারে প্রায় ৫/৭টি চাতালকল থাকলেও লোকসানের কারনে এর বেশিরভাগই বন্ধ। বর্তমানে ১/২টি চাতালকল কোন রকমে চালু আছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোবারক বলেছেন, বর্তমানে চাতালকলের অবস্থা খারাপ হলেও অতীতে ভালোই ছিল। সেই ব্যবসার টাকা দিয়েই বাড়ি-গাড়ি করেছি। আগামীতে তিনি দেড় কোটি টাকা খরচ করে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করবেন বলেও জানান মোবারক। এছাড়াও নিউজ প্রকাশ না করার জন্য বিভিন্ন হুমকি-দামকি দেন সাংবাদিককে।
এ বিষয়ে মোবারকের বাবা ফিরোজ মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এর কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। কত টাকা খরচ করে ৬ তলা বাড়ি নির্মান করা হয়েছে, কত টাকা দিয়ে গাড়ি কেনা হয়েছে, ব্যবসা করে তিনি কত টাকা কামিয়েছে, তিনি কত টাকার মালিক এসব প্রশ্নের কোন উত্তরই দিতে পারেননি তিনি। তিনি এর কিছুই জানেন না বলে জানান।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুধন্তী ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা দুইজন আওয়ামীলীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধি জানান, মোবারকের দাদা বাজারে লাউ,সিম, কোমড়া বিক্রি করতো। তার বাবা ফিরোজ ছিলেন বিভিন্ন মেলা বা যাত্রার গেইটম্যান। তিনি যেভাবেই হোক বিদ্যুৎ নামে এক হিন্দু লোকের কাছ থেকে চাতালকল নিয়েছিলেন। সেটা ছিল ছোট ব্যাবসা। তা দিয়ে এতকিছু করা সম্ভব না। তবে এখন সেই ফিরোজের ছেলে মোবারকের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে।

সূত্র: তেপান্তর