মাধবপুরে ধর্ষণ মামলার আসামী প্রকাশ্য দিবালোকে ঘুরে বেড়াচ্ছে

সিলেট, 11 November 2019, 308 বার পড়া হয়েছে,

হীরেশ ভট্টাচার্য্য হিরো,মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি : হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক গৃহবধুকে দিনদুপুরে ধর্ষণ করে তিন বখাটে যুবক। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১০ অক্টোবর দুপুরে উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়নে। মামলার বিবরণে জানা যায়, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার মিঠাছড়া গ্রামের মৃত মজিদ রহমানের ছেলে মোঃ আজমির মিয়া প্রায় ২০ বছর পূর্বে তেলিয়াপাড়া বাজারে তার পিতা-মাতাকে নিয়া আসে। আসার পর তার পিতা মাতা বাজারের ঝারুদারের কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিল। প্রায় ৫ বছর পূর্বে আজমির মিয়া মর্জিনা বেগম (১৯) নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। তারপর তাদের ঘরে ৪ বছরের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। মর্জিনা বেগম বাসার মধ্যে জামা কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে। তার স্বামী আজমির মিয়া নোয়াপাড়া বাজারে কম্পিউটার দোকানে কাজ করে। আর তাদের বসবাসকারীর একমাত্র বাসস্থান হলো তেলিয়াপাড়া ডাকবাংলো রোডের রেল লাইনের পাশে রেলের জায়গার উপর টিনের ঘর। ১০ অক্টোবর দুপুর অনুমান ১২ টায় তেলিয়াপাড়াস্থ সেলামীশাহ্ মাজার জিয়ারত করার জন্য মর্জিনা বেগম বের হন। রাস্তার মধ্যে আসামী ওই ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের ফেন্দু মিয়ার ছেলে জাকির মিয়া (২৭) তেলিয়াপাড়া ষ্টেশন বাজারের এরশাদ আলীর ছেলে মনছুর মিয়া (২১) ও ফরহাদপুর গ্রামের হরছত আলীর ছেলে হুমায়ুন কবির (২২) মর্জিনাকে অনুসরণ করে। মর্জিনা সেলামী শাহ্ মাজার জিয়ারত শেষে পিছনে ফিরে দেখে তিন বখাটে একটি সিএনজি গাড়ীর ভিতরে বসা আছে। মর্জিনা বাসায় চলে আসার জন্য রওয়ানা দিলে ৩ নং আসামী হুমায়ুন কবির সিএনজি থেকে নেমে এসে মর্জিনাকে জোরপূর্বক হাত পা চাপা দিয়ে সিএনজি গাড়িতে উঠিয়ে সিএনজির পিছনের সিটের মাঝখানে মর্জিনাকে বসায়। মর্জিনার বাম পাশে ২নং আসামী মনছুর মিয়া মর্জিনার ডান পাশে ও ৩নং আসামী হুমায়ুন বসা ছিল। সামনের ছিটে ড্রাইভারের পাশে ১নং আসামী জাকির হোসেন বসা ছিল। আসামীরা মর্জিনাকে সুরমা চা বাগানের ১০নং সেকশনের ভিতরে নিয়ে যায়। তারপর সিএনজি ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে চলে যায়। মর্জিনা সিএনজি ড্রাইভারকে চিনে নাই। ওই সেকসনের চাপাতা চারা গাছের গুপের মধ্যে আসামীরা মর্জিনাকে মাটিতে শুয়াইয়া ফেলে। ১নং আসামী জাকির মিয়া তখন মর্জিনার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষন করে। এ সময় ২নং আসামী মনছুর মিয়া ও ৩নং আসামী হুমায়ুন কবির চারদিকে পাহাড়া দেয়। ধর্ষণ করার পর ভিকটিম মর্জিনা চিৎকার চেছামেছি করার পর আসামীরা তাকে ভয় দেখায়। তখন কৌশলে আসামীদের নিকট থেকে ছাড়া পেয়ে দৌঁড়ে রাস্তায় এসে সিএনজি দিয়ে তেলিয়াপাড়া বাসায় চলে আসে মর্জিনা। অবশেষে আসামীরা মর্জিনার পরিবারকে প্রাণনাসের হুমকি দিলে ভিকটিম মর্জিনা চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার মিঠাছড়া গ্রামে চলে যায়। গত ১৯ অক্টোবর ভিকটিম মর্জিনা বেগম মাধবপুর থানায় এসে ১নং আসামী ধর্ষণকারী জাকির মিয়া সহ ৩ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (স:) (০৩) এর ধারায় মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৬। মামলাটি রুজু হওয়ার পর হরষপুর (তেলিয়াপাড়া) সাব ইন্সপেক্টর মোঃ রকিবুল হাসানকে তদন্ত ভার দেওয়া হয়। চারদিন পর ধর্ষনকারী জাকিরকে গ্রেফতার করে ফাঁড়ি পুলিশ। আসামীরা মামলার বাদীকে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য হুমকি দমকি দিয়ে আসছে। মামলার বাদী ভিকটিম মর্জিনা বেগম আসামীদের ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গত ৮ নভেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা ৮টা ৩৫ মিনিটের সময় ২নং আসামী মনছুর মিয়া তার ২ বছরের একটি শিশু বাচ্চাকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য তেলিয়াপাড়া ষ্টেশন বাজারের মর্ডান ফার্মেসীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। তখন বাজারের লোকজন ধর্ষনকারীকে দেখে হতভম্ব হয়ে যান। তাৎক্ষণিক সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানানোর পর তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন উনি ডিউটি কাজে ব্যস্ত। পরবর্তীতে বিষয়টি দেখা যাবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রহস্যজনক কারণে আসামী মনছুর মিয়া তেলিয়াপাড়া বাসাতেই বসবাস করছেন। এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজমিরুজ্জামান বলেন, অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ আসামীদের ধরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।