বিজয়নগ‌রের ও‌সি ফয়জুল আজী‌মের সাহ‌সিক পদ‌ক্ষে‌পে ঝগড়া প‌রিহার করল এলাকাবাসী

বিজয়নগর, 5 November 2019, 789 বার পড়া হয়েছে,

নিজস্ব সংবাদদাতা: ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার বিজয়নগ‌র থানার অ‌ফিসার ইনসার্জ ফয়জুল আ‌জিম নোমা‌নের অত্যন্ত সাহ‌সিক পদ‌ক্ষে‌পে অল্প‌তেই উভয় পক্ষ ঝগড়া প‌রিহার ক‌রে । জানা যায়, উপ‌জেলার হরষপুর ইউানয়‌নের বুল্লা, এক্তার পুর এবং পাইকপাড়া, হাজীপুর গ্রা‌মে হুগলী বি‌লে আ‌ধিপত্য বিস্তা‌রে মাছ ধরা‌কে কেন্দ্র ক‌রে মাই‌কে ঘোষনা দি‌য়ে রক্তক্ষয়ী সংঘ‌র্ষে নে‌মে যায় এলকাবাসী । খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুঁটে যান বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফয়জুল আজীম নোমান । সংঘর্ষ নিরসনে ঘটনাস্থলে ও‌সির সাহসিক ও ভূয়সী পদক্ষেপে উভয় পক্ষগণ অল্পতেই সংঘর্ষের পথ পরিহার করে বিল থেকে সরে যান । স্থানীয়রা ম‌নে কর‌ছেন উভয়পক্ষের সংঘর্ষ চলতে থাকলে শত শত নারী-পুরুষ হতাহত সহ বিপুল প‌রিমা‌নের ঘর বা‌ড়ি ভাংচুর হত । আর উক্ত সংঘর্ষ নিরসনে ঘটনাস্থলে (ওসি) মোঃ ফয়জুল আজীম নোমা‌নের সাহসিকতায় পেশাগত দায়িত্ব পালনের ভূয়ী প্রশংসা উঠে আসে জন সাধার‌নের মু‌খে ।
উ‌ল্লেখ্য গত শনিবার দুপুরে উভয় পক্ষই সংঘ‌র্ষে লিপ্ত হ‌লে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে, সাবেক মেম্বার ফুল ইসলাম ও কাওছার মেম্বারের লোকজন পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল ছোড়ে এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন । এ‌তে পুলিশ সহ প্রায় ১৫ জন আহত হ‌য়। আহত পুলিশের এএস আই মোশারফ হোসেন , আব্দুল ওয়াদুদ ও পুলিশ সদস্য সাইফুল সহ- আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে । ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৫০ রাউন্ড ফাকা গুলি ছোড়তে হয়েছে ।
স্থানীয় সূ‌ত্রে জানা যায় ,হরষপুর ইউনিয়নের বুল্লা গ্রামের হুগলি বিল বড় উঠান মৎস্য জীবি সমবায় সমিতি লিঃ জেলা প্রশাসন থেকে ইজারা নিয়ে বুল্লা গ্রামের সাবেক মেম্বার ফুল ইসলাম ও তার ছেলে বর্তমান মেম্বার কাওছার মিয়ার কাছে কয়েকদিন আগে উক্ত সমিতির সভাপতি হিরালাল দাস ও সাধারন সম্পাদক নারায়ন দাস আবার নতুন করে ইজারা দেয় । ইজারা নিয়ে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে তারা পার্শবর্তী পাইকপারা ,হাজিপুর ,হাতুরা পাড়া গ্রামের ব্যাক্তি মালিকানাধীন জমিতে বাধ নির্মান করে । এ‌তে পাইকপাড়া গ্রামের কাসেম মেম্বার ও রাজু সরদারের নেতৃত্বে একদল লোক বাধা দেয়। পরে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে । প্রশাসন উভয় পক্ষকে নিয়ে একাধিক বৈঠক করেন ।গত তিনদিন আগে এই ঘটনাকে উস্কে দিতে বুল্লা গ্রা‌মের কাওসার মেম্বার মৎস্যজীবি সমিতির লোকজন দিয়ে সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে তাদের আত্বীয় নাসির নগর উপজেলার নিহারন্দ চক্রবর্তী নামের একটি ফেইজবুক আইডি থেকে মুসলমানরা হিন্দুদের নির্যাতন করা হচ্ছে বলে একটি ভিডিও আপলোড করে গুজব ছড়ায়। এতে কাজ না হলে গত শনিবার সকাল ১০ টার দিকে বুল্লা গ্রামের মসজিদের মাইকে সাবেক মেম্বার ফুল ইসলাম ও কাওছার মেম্বারের লোকজন পাইকপড়া, হাজীপুর, হাতুরা পাড়া গ্রামে হামলা চালানোর ঘোষনা দেয় ।

Leave a Reply