রোমান্টিক ভোগবাদ

সাহিত্য, 7 October 2019, 96 বার পড়া হয়েছে,

মধ্যযুগে একজন বিবাহিত নারী যদি পরপুরুষের সাথে সস্পর্ক স্থাপন করতো,তখন আত্মগ্লানিতে ভুগতো,পাদ্রির কাছে গিয়ে পাপের জন্য অনুশোচনা করতো,ফাদার তার এ পাপের জন্য শাস্তিস্বরুপ,তাকে দশটা স্বর্ণের মুদ্রা,ছয় মাস মাংস খাওয়া থেকে বিরতি,সেইন্ট থমাস ব্যাকেটে তীর্থযাত্রা করে পাপমোচন করতে বলতো(অবশ্য পুরুষ একই কাজ করলে পাপ বলে গণ্য হতো না)।কিন্তু বর্তমানে কোন নারী এমন করলে কোন পাদ্রি বা পীরের কাছে যায় না।তারা বন্ধুবান্ধবদের সাথে শেয়ার করবে অথবা মেহতাব খানমের কাছে কারণ জানতে চাইবে।মেহতাবের মতো মনোবিজ্ঞানীরা এটা বলবে না “হে পাপিষ্ঠা নারী,তুই নরকের আগুনে জ্বলবি”।বরং বলবে”how do you feel from inside?
feel from heart,হৃদয়ের কথা শোন।তোমার আত্মা যদি বলে পাপ করো নি,তাহলে সেটাই পূণ্য।Emile”উপন্যাসে এমনটাই রুশো বলেছেন।
এটাই আধুনিক ব্যাক্তি স্বাতন্ত্র্যবোধ ও উদার নীতির মূলকথা।মধ্যযুগের বর্বরতা এখন নেই।তবে বর্তমানে
এই রোমান্টিক ভোগবাদ,উদারনীতি আমাদের সেচ্ছাচারি,লোভী ও চরম মাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক করে তুলেছে।
দেকার্তে বলতো”আমরা যতোদিন চিন্তা করতে পারবো,ততোদিন টিকে থাকবো”এখন পূজিবাদ,রোমান্টিক ভোগবাদ বলে”enjoy your life,”বিপণন বাজার যেমন কোকাকোলা কোম্পানি বলে”ডায়েট কোক।মন যা চায় তাই করো”।যতদিন কিনতে পারবেন,ততদিন টিকে থাকবেন”।মানুষ আজ প্রচুর অর্থ ব্যয় করে বিদেশ যায়,কারণ,তারা রোমান্টিক ভোগবাদে বিশ্বাসী।বিপণন বাজার,টেলিভিশন,আপনার সামনে বিচিত্র ধরনের রন্ধনপ্রণালী,প্
রসাধনী,যোগব্যায়াম থেরাপি,নতুন নতুন চাকচিক্যময় পণ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ে হাজির হয়ে বলছে”we are at your service “আমরাও এগুলো কিনতে আগ্রহী হই।কারণ,আমরা ধীরে ধীরে রোমান্টিক ভোগবাদে বিশ্বাসী হচ্ছি।
“সৌন্দর্য আমাদের অধিকার”এ শ্লোগানে_
আমরা পরস্পরের মাঝে প্রতিযোগিতা করি,আমরা এখন বস্তুবাদী জগতে,সুখ মানেই প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জিনিসপত্র ক্রয় করা,নিজেকে তৃপ্ত রাখা বুঝি,এবং প্রতিনিয়ত পরশ্রীকাতরতায় ভুগছি।এভাবে সবাই কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করছি,বিনোদনের নামে,সৌন্দর্যের, ভালোবাসার নামে।জীবনের এই hedonistic view আমাদের চরম স্বার্থপর করে তুলছে।
আগেকার সময়ে স্বামী,স্ত্রীর সম্পর্কের টানাপোড়ন হলে বউ বাপের বাড়িতে গিয়ে কান্নাভরা চিঠি লিখতো,বর আবেগে হাউমাউ করে ছুটে যেতো।
কিন্তু রোমান্টিক ভোগবাদী কনসালটেন্টরা বলে”কয়েকদিন সমুদ্রে ঘুরে আসেন,দেখেন নিজেদের ভিতরে ভালোবাসা জাগে কিনা”কিংবা অনেকে অধিক স্বাতন্ত্র্যবোধের জন্য সম্পর্ক ছিন্ন করতে একটুও অপেক্ষা করে না।কারণ রোমান্টিক ভোগবাদ বলে”এক নদীতে আর কয়বার স্নাণ করবেন।জীবনের বিচিত্রতা উপভোগ করুন।”স্বাধীনতা,উপভোগের নামে আমরা আসলে কী করছি?