কসবায় পুলিশের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন

কসবা, 11 June 2019, 266 বার পড়া হয়েছে,


রুবেল আহমেদ, কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)প্রতিনিধি॥
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের মাইজখার গ্রামে এক পুলিশের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে গ্রামবাসী। ওই গ্রামের অধিবাসী আল মামুন ওরফে মিন্টু দারোগার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যুবৃত্তি, জাল-জালিয়াতি, গ্রামে দলাদলি সৃষ্টি, সাধারন মানুষের মধ্যে বিবেদ সৃষ্টি করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে এলাকাবাসী গতকাল মঙ্গলবার (১১ জুন) সকালে কাঠেরপুল এলাকায় সংবাদ সম্মেলন সহ মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে। এতে কুটি ইউনিয়নের সাত গ্রামের মানুষ অংশ নেয়।
সম্মেলনে ওই গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী হাজী জুলহাস সওদাগর জানান; কাঠেরপুল নামক জায়গায় তিনি ৩২ শতক নাল ভ’মি ক্রয় করেন প্রায় ৩০ বছর পূর্বে। প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে মাটি দিয়ে ভরাট করেন। পরে প্রায় কোটি টাকা খরচ করে সেই জায়গায় মার্কেট তৈরি করেন তিনি। সেই মার্কেটে দুই বছর পূর্বে দোকান ভাড়া নেয় দারোগা আল মামুন ওরফে মিন্টু। পরে ওই সাবেক ২৯ দাগে ১০ শতক নাল ভূমির ভূয়া দলিল করে মালিকানা দাবী করছে মিন্টু ও তার ভাই কাইয়ুমের শাশুড়ী শিরিন আক্তার। বর্তমানে সে দোকানের ভাড়াও দিচেছনা অপরদিকে দোকানও ছাড়ছে না। এব্যাপারে গ্রামে একাধিক বৈঠক হলেও অভিয্ক্তু মিন্টু বৈঠকে হাজির হয়না। সে পুলিশে চাকুরী করে মাসের পর মাস গ্রামে এবং কসবায় অবস্থান করে। গ্রামে বিভিন্ন সময় সাজানো দেন-দরবার সৃষ্টি করে উভয় পক্ষ থেকে ঘুষ নেয় বলে হাজী কামাল, হাজী রশিদ, হানিফ ভূইয়া, হাজী মোকাদ্দেস মেম্বার, সিদ্দিক মেম্বার ও অনু মেম্বার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান। তারা আরো বলেন এই আল মামুন মিন্টু এখন এলাকার আতংক হয়ে দাড়িয়েছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ট মাইজখার, দক্ষিনখার, রামপুর, বিষ্ণপুর, বাগুইর, রানিয়ারা ও শান্তিপুরের সাধারন মানুষ। মুরব্বীরা বলেন তার মামার বাড়ি এলাকার সাংসদ আইনমন্ত্রীর গ্রামে হওয়ায় সে আইনমন্ত্রী ও পুলিশের ভয় দেখিয়ে গ্রামের মানুষকে নানা ভাবে । এ বিষয়ে ৩ জুন ২০১৯ ইং গ্রামবাসীর পক্ষে হাজী জুলহাস বাদি হয়ে কসবা থানায় অভিযোগ করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সে বিএনপি’র কট্টর সমর্থক। আইনমন্ত্রীর সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। পরে বিক্ষুব্দ লোকজন কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে দাড়িয়ে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক লোক অংগ্রহন করে। তার জালদলিল বাতিল করার দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী। আইনমন্ত্রীর কাছে এলাকাবাসী দাবী তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আল মামুন মিন্টু দারোগার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সে জানায় সে মেডিকেল ছুটিতে আছে। চাঁদপুর জেলায় চাকুরী করছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমি হাজী জুলহাস থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়েছি সত্য। আমার ভাই ও তার শাশুড়ী ১০ শতক ভূমি ক্রয় করেছে হাল ৫৯ দাগে। হাজী জুলহাসের মার্কেট সেই দাগে তা আমার জানা নেই।