১৬৭ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা

স্বাস্থ্য, 27 May 2019, 437 বার পড়া হয়েছে,


বায়েজীদ মুন্সী : চাকরিতে আছেন কিন্তু হাসপাতালে নেই। এদের মধ্যে কোনো কোনো চিকিৎসক আবার বছরের পর বছর ধরেও আসছেন না কর্মস্থলে। কোথায় আছেন, কিভাবে আছেন সেই তথ্যও নেই কারও কাছে। অথচ নিয়মিত বেতনও জমা হচ্ছে ব্যাংক একাউন্টে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনার পর এবার নড়েচড়ে বসেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় ১৬৭ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। পাশাপাশি মামলা হওয়া চিকিৎসকদের অ্যাকাউন্টে বেতন ঢোকাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার কারণে ১৬৭ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। যেসব চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে, হাসপাতালের সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তারা কোথায় আছেন, সেই তথ্যও নেই। এদের কেউ কেউ তিন বা সাড়ে তিন বছর ধরেও কর্মস্থালে অনুপস্থিত। তবে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ না করলেও তাদের ব্যাংক হিসেবে বেতন গেছে। যদিও মামলার পর বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এর আগে অনুপস্থিতির বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে মামলা হওয়া ১৬৭ জন চিকিৎসকের সংখ্যা নিশ্চিত করা হলেও  কোনো কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, তারা কোন কোন হাসপাতালে কত দিন ধরে অনুপস্থিত, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন পরিচালক বলেন, সারাদেশে ১৬৭ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তবে তারা কোথায় আছেন তাদের খোঁজ নেই। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তার পর তারাও তৎপর হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দেশবাসীর কাছে চিকিৎসকদের বিষয়ে ভালো বার্তা যাচ্ছে না। তাই তারা চাইছেন, ডাক্তাররা যারা চাকরি করবেন, তারা সময় মতো অফিসে আসবেন। তবে পরিস্থিতির যে খুব বেশি উন্নতি হয়েছে তা নয়। কারণ, সম্প্রতি নড়াইল সরকারি হাসপাতালে সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজার ঝটিকা অভিযানেও চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। এরপর চার জন চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়েছে। চিকিৎসকদেরকে হাসপাতালে আনতে গত জানুয়ারিতে একটি বিশেষ উদ্যোগের আলোচনা হয়েছিল। তারপর চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনার মধ্যে হাসপাতালে বায়োমেট্রিক (আঙ্গুলের  ছাপ দিয়ে ডিজিটাল) হাজিরা পদ্ধতি চালু নিয়ে আলোচনা হয়েছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। তবে এখনো সে পদ্ধতি চালু হয়নি।

এদিকে চলতি বছরের গত ২৭ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় কর্মস্থলে না থাকলে ডাক্তারদের ওএসডি করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

একইসঙ্গে, রোগীদের সেবা না দিলে নার্সদের অব্যাহতি দেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের দুই বছর ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা থাকবে। এরমধ্যে এক বছর উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে থাকতে হবে। পাশাপাশি সব সরকারি হাসপাতালে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, কর্মস্থলে চিকিৎসক পাওয়া না গেলে তাদের ওএসডি করতে হবে। নার্সদের কাজ শুধু রোগীকে ওষুধ খাওয়ানো নয়, সেবা করা। কেউ সেবা দিতে না চাইলে তাকে অব্যাহতি দিতে হবে।