বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করেছি : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়, 16 March 2019, 358 বার পড়া হয়েছে,


গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্ত্রবাজি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্রথমবার ক্ষমতায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের মহড়া, গুলি আর বোমাবাজি বন্ধ করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের হাতে অস্ত্রের পরিবর্তে বই-কলম তুলে দেন বলেও জানান তিনি।

শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গত ১১ মার্চ প্রায় ২৮ বছর পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে বিজয়ীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে ডাকসু নেতাদের আন্তরিক ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তিনি।

এ সময় নেতারা সুষ্ঠুভাবে ডাকসু পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘গণতন্ত্র চর্চা করতে হলে জনগণের মতকে গুরুত্ব দিতে হয়। কারণ ভোট জনগণের অধিকার। যারা হত্যা-ক্যু করে ক্ষমতায় এসেছে তারা বারবার জনগণের অধিকারে আঘাত দিয়েছে। মিলিটারি ডিকটেটররা ক্ষমতায় এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে।’

পঁচাত্তরের পর দেশের দূরবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ছয় বছর পর দেশে এসে দেখলাম প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্রের আওয়াজ। প্রতিদিন গুলি-বোমা। অনেকেই ঠাট্টা করে বলত, বোমা আর গুলির আওয়াজ না শুনলে আমাদের চোখে ঘুম আসে না। এটা খুবই দুঃখজনক।’

‘স্বাভাবিকভাবে আমার লক্ষ্য ছিল অস্ত্রের প্রতিযোগিতা কেন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে। খালেদা জিয়া প্রথমবার ক্ষমতায় এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দেয়ার জন্য ছাত্রদলই যথেষ্ট। আমি তখন ছাত্রলীগের হাতে খাতা-কলম তুলে দিয়ে বলেছিলাম, আমরা শিখেছি অসির চেয়ে মসি শক্তিশালী। কিন্তু পরিবেশটা এমন ছিল নিজের জীবন রক্ষা করতে হলেও অস্ত্রের প্রয়োজন পড়ত।’

টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এতটুকু বলতে পারি, এই দশ বছরে অশুভ প্রতিযোগিতা হয়নি।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ‘তবে একটা বিষয় ব্যথিত করে। কোটা আন্দোলন যুক্তিযুক্ত ছিল। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, লুটপাট এটা কিন্তু কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্দোলন আমরাও করেছি। সেই ১৯৪৮ সাল থেকে একের পর এক করেছি। ভিসির বাড়িতে হয়ত অবস্থান, বেশি কিছু হলে বাড়ির সামনে ফুলের টব ভেঙেছি। কিন্তু বাড়ির ভেতর ঢুকে আগুন, লুটপাট এমন ধ্বংসাত্মক কাজ কখনো দেখিনি। এটা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকে কলঙ্কিত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোটার পর এলো নিরাপদ সড়ক। সেখানেও আন্দোলনের নামে নানা ঘটনা ঘটেছে। প্রথম দেখলাম বাচ্চাদের আন্দোলন। কিন্তু আমরা যখন শুনলাম দর্জির দোকানে ড্রেস বানানোর ভিড়, ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি হচ্ছে, ব্যাগ থেকে পাথর বের হচ্ছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ দেখা দেয়।’

‘ভয়টা ছিল এই সূত্র ধরে কারা ঢুকতে পারে এবং কী ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে সেটা নিয়ে। অশুভ ঘটনা ঘটালে দায় কে নেবে? সব দায় সরকারের। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই ধরনের সুযোগ সন্ধানী সব আন্দোলনে থাকে। সেজন্য আমি বলব, নেতৃত্ব যারা দেবে তারা যেন সচেতন থাকে।