স্বামীর হাতে স্ত্রী হত্যার ৩ দিন পর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

নাসিরনগর, 18 February 2019, 406 বার পড়া হয়েছে,


মোঃ আব্দুল হান্নান,নাসিরনগর,ব্রাক্ষণবাড়িয়ঃ, শুক্রবারে স্বামীর হাতে স্ত্রী নিহত হলেও রবিবারে নির্বাহী ম্যাজেষ্ট্রেটের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হযেছে লাশের ময়নাতদন্ত।এতদিন লাশ পড়েছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর হাসপাতাল মর্গে।এত দেড়িতে ময়না তদন্তের কারণ সম্পর্কে নিহতের বড় ভাই চন্দন কুমার দেব জানান, জামাই রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ময়না তদন্তের রির্পোট তাদের পক্ষে নিতে চেয়েছিল।কিন্ত তা পারেনি, মিডিয়া কর্মীদের চাপের মুখে পড়ে রবিবার বেলা প্রায় ১২ ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সাইদা খানমের উপস্থিতিতে ডা: নুর-ই শামসের নেতৃত্বে ৩ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে নিহত লিপি রানী দেবের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলা পরিষদের বর্তমান উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মানিক কুমার দেব তার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী লিপি রানী দেবকে গলা টিপে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রোজ শুক্রবার বিকাল অনুমান পাঁচ ঘটিকার সময় শ্বশুরবাড়ি নাসিরনগরে ফোন করে জামাই ভাইস চেয়ারম্যান মানিক কুমার দেব। সে ফোন করে লিপির বড় ভাই চন্দন কুমার দেব কে জানায় তার বোন বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। জামাই ফোনে লিপির বড়ভাইকে বলে আপনার বোনকে আপনাদের বাড়ীতে পাঠিয়েছি।আপনি লিপিকে চিকিৎসা করে সুস্হ করে তুলবেন।
অষ্টগ্রাম থেকে স্পীডবুটে করে পাঠানো লিপি রানি দেবকে রাত সাড়ে আটটার দিকে প্রথমে নাসিরনগর পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

লিপি রানি দেব নাসিরনগর উপজেলা সদরের দত্তপাড়া এলাকার মৃত তুলসি রঞ্জন দেবের মেয়ে। লিপির মগ্ন চন্দ্র দেব নামে আট বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।লিপির ভাই ও আত্মীয় স্বজন জানায়, নিহতের স্বামী লিপিকে হত্যা করেছে। তাই তার লাশ কিশোরগঞ্জে না রেখে পারিবারের কাউকে দিয়ে না পাঠিয়ে প্রতিবেশী দুইজন ব্যাক্তিকে দিয়ে লিপির পিত্রালয় নাসিরনগরে পাঠিয়েছে। লিপি দেবের স্বামী কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্ট্রগাম উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মানিকই এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে এমন কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ করেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জনা গেছে, প্রায় ১২বছর আগে অষ্টগ্রামের দুর্গামোহন দেবের ছেলে মানিক কুমার দেবের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় লিপির । বিয়ের দুই বছরে মাঝেই তাদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। কয়েকদিন পর সে মারা যায়। এর দুই বছর পর মগ্ন দেবের জন্ম হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়া হতো। ঝগড়ার কারণ হিসেবে জানা গেছেন মানিক দেবের ৫ বোন বিয়ে হওয়া সত্ত্বেও স্বামীর বাড়িতে না থেকে বাবার বাড়িতেই থাকেন। আর এই পাঁচ বোনই লিপি দেবের সাথে নানা বিষয়ে প্রায় সময়ই ঝগড়ায় লিপ্ত থাকতো।

শুক্রবার বিকেলে বাড়ির রাস্তা নিয়ে লিপি দেবের সাথে মানিক দেবের বোনদের ঝগড়া হয়। এসময় লিপির স্বামী মানিক স্ত্রীর বিরুদ্ধে গিয়ে বোনদের পক্ষ নেয়। এক পর্যায়ে মানিক স্ত্রীকে মারধর করে হত্যা করে।
এঘটনায় মানিক দেবের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন না ধরে তার চাচাতো ভাই বিদ্যুৎ চন্দ্র রায় ফোন ধরে বলেন মানিক অসুস্থ।
লিপির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানিক আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী। শুক্রবার তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। তার নিহত স্ত্রী লিপি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। এজন্যই তার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন বিদ্যুৎ চন্দ্র রায় ।
নিহত লিপির বড় ভাই চন্দন দেব অভিযোগ করে বলেন, মানিক দেব প্রায় সময়ই পারিবারিক কলহের জের ধরে লিপিকে মারধর করত। শুক্রবার বিকেলে মানিক পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাটির এক পর্যায়ে গলা টিপে লিপিকে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে তার বোন লিপিকে নিজে আত্মহত্যা করেছে বলে নাটক সাজায়। পরে এ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতেই মানিক তার স্ত্রী নিহত লিপিকে অষ্টগ্রাম থেকে স্পীডবোটে করে দুই প্রতিবেশীর মাধ্যমে লিপির পিত্রালয় নাসিরনগরে পাঠায়।

চন্দন এ ঘটনায় থানায় মানিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করবেন বলে জানান। চন্দন দেব কান্নাজনিত কন্ঠে আরও বলেন, বুকে পা দিয়ে গলা টিপে তার বোন লিপিকে হত্যা করেছে মানিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা আবাসিক চিকিৎসক আজহারুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আসার আগেই লিপির মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মুখে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত দেখা যায়নি। ময়নাতদন্তের

প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।অষ্ট্রগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ভাইস চেয়ারম্যানের স্ত্রী নিহতের সংবাদ পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে থানায় কেউ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি। আমি স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে বিষ পান করে আত্মহত্যা করে মানিক দেবের স্ত্রী।